ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে গেলেও নিজের ৩ বছরের ছোট মেয়েকে কোনও আত্মীয়র কাছে রেখে গেছিলেন শ্বেতা।

শ্বেতা খান
শেষ আপডেট: 11 June 2025 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্বেতা খানের (Sweta Khan) মাকে আটক করল পুলিশ। পর্নকাণ্ড এবং সোদপুরের তরুণী নিগ্রহের ঘটনায় (Sodepur Woman Assault) তিনি এবং তাঁর ছেলে আরিয়ান এখনও পলাতক। তাঁদের হদিশ না মেলায় কার্যত সব জায়গায় চিরুণী তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ। এরই মধ্যে শ্বেতার মাকে আটক (Mother Detained) করা হল।
ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে গেলেও নিজের ৩ বছরের ছোট মেয়েকে কোনও আত্মীয়র কাছে রেখে গেছিলেন শ্বেতা। এই খবর ছিল পুলিশের কাছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর মাকে আটক করা হয়েছে। এদিকে কলকাতায় (Kolkata) ওই নাবালিকারও সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তাঁকে ডোমজুড় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, শ্বেতার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মেয়ের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। অনুমান, তিনি জানেন যে শ্বেতা কোথায় গেছেন।
শ্বেতার দু’টি বিয়ে। প্রথম পক্ষের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। ছেলে আরিয়ান এখন মায়ের সঙ্গেই পলাতক। আর মেয়ে মারা গেছেন। এদিকে দ্বিতীয় পক্ষের একটি মেয়ে রয়েছে তাঁর। সেই মেয়েরই খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। কলকাতায় এক পরিচিতের বাড়িতে তাঁকে রেখে পালিয়েছেন শ্বেতা। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শ্বেতা খান ও আরিয়ান খান বছরে একাধিকবার বিদেশে যান। শ্বেতা মাঝেমধ্যে ব্যাঙ্ককেও যেতেন। ব্যাঙ্ককে শ্বেতার কী যোগাযোগ, সেটা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। কাদের সঙ্গে শ্বেতা ব্যাঙ্ককে যেতেন, কেন যেতেন, এই সবটাই তদন্তকারীদের আতশ কাচের নীচে। এখনও পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ না মেলায় পুলিশ মনে করছে, ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন শ্বেতা।
মঙ্গলবারই শ্বেতার ফ্ল্যাটে গেছিল ডোমজুড় থানার অন্তর্গত বাঁকড়া ফাঁড়ির পুলিশ। ফ্ল্যাটের পিছনে মহিলাদের কাটা চুল পড়ে থাকতে দেখেন তদন্তকারীরা। চুলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শ্বেতা খানের বিরুদ্ধে মারধরের পাশাপাশি চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন সোদপুরের নির্যাতিতা। এই চুল তাঁর কিনা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক সন্দেহ, চুল নির্যাতিতারই। কারণ তাঁকে নির্যাতনের সময় মাথার চুল কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছিল তরুণীর পরিবার।
অন্যদিকে, নির্যাতনের শিকার মেয়েটির শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটছে বলেই জানা গেছে। তরুণীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয় সাগর দত্ত হাসপাতালে। বর্তমানে অবস্থা আরও সংকটজনক হওয়ায় তাকে সিসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। মূল অভিযোগ, তাঁকে নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি চক্রে জোর করে জড়ানোর পিছনে রয়েছে আরিয়ান খান ও তাঁর মা শ্বেতা খান।