সোদপুরের তরুণী নিগ্রহের ঘটনায় এখন সব জায়গায় চর্চা চলছে হাওড়ার বাসিন্দা শ্বেতা খান এবং তাঁর ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে। পর্ন ভিডিও বানানো থেকে চাকরির নামে প্রতারণা, সব অভিযোগ রয়েছে দুজনের বিরুদ্ধে।

শ্বেতা খান
শেষ আপডেট: 10 June 2025 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোদপুরের তরুণী নিগ্রহের (Sodepur Woman Assault) ঘটনায় এখন সব জায়গায় চর্চা চলছে হাওড়ার বাসিন্দা শ্বেতা খান (Sweta Khan) এবং তাঁর ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে। পর্ন ভিডিও (Porn Video) বানানো থেকে চাকরির নামে প্রতারণা, সব অভিযোগ রয়েছে দুজনের বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি, সোদপুরের তরুণীকে প্রায় পাঁচ মাস আটকে রেখে চুলের মুঠি ধরে মারধরের ঘটনাও তারা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ। তার এবার প্রমাণও মিলল। শ্বেতার ফ্ল্যাটের পিছন থেকে মাথার চুল সংগ্ৰহ করল পুলিশ। সেটি নির্যাতিতা তরুণীর বলেই মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে শ্বেতার ফ্ল্যাটে গেছিল ডোমজুড় থানার অন্তর্গত বাঁকড়া ফাঁড়ির পুলিশ (Bankra Police)। ফ্ল্যাটের পিছনে মহিলাদের কাটা চুল পড়ে থাকতে দেখেন তদন্তকারীরা। চুলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শ্বেতা খানের বিরুদ্ধে মারধরের পাশাপাশি চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন সোদপুরের নির্যাতিতা। এই চুল তাঁর কিনা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক সন্দেহ, চুল নির্যাতিতারই। কারণ তাঁকে নির্যাতনের সময় মাথার চুল কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছিল তরুণীর পরিবার।
বর্তমান শ্বেতা এবং আরিয়ান দুজনেই পলাতক। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শ্বেতা খান ও আরিয়ান খান বছরে একাধিকবার বিদেশে যান। শ্বেতা মাঝেমধ্যে ব্যাঙ্ককে যেতেন। ব্যাঙ্ককে শ্বেতার কী যোগাযোগ, সেটা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। কাদের সঙ্গে শ্বেতা ব্যাঙ্ককে যেতেন, কেন যেতেন, এই সবটাই তদন্তকারীদের আতশ কাচের নীচে। এখনও পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ না মেলায় পুলিশ মনে করছে, ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন শ্বেতা। তবে এলাকা থেকে তাদের সম্পর্কে যে যে তথ্য মিলছে তা বিস্ফোরক।
ইতিমধ্যে জানা গেছে, অপরাধীদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিল শ্বেতার। এক সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি শ্বেতার তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় অভিযোগ করেছেন শ্বেতার প্রাক্তন স্বামী সৈয়দ। দাবি, তার জন্যই তাঁদের মেয়ে অকালে চলে গেছে। আর এখন ছেলেও ভুল পথে চালিত হচ্ছে। এক কথায়, সব কিছুর জন্য তিনি শ্বেতাকেই দায়ী করেছেন।
সৈয়দ এও বলেন, শুধুমাত্র সম্পত্তির লোভে শ্বেতা তাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে শ্বেতার উচ্চাকাঙ্খা বা স্বেচ্ছাচারিতা বাড়তে থাকে। সে জন্যই তিনি তাকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন বলে জানান সৈয়দ। তাঁর এও অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাঁকে মারধর করতেন শ্বেতা। শুধু তাই নয়, বাড়ির দলিল নিয়ে গিয়ে নিজের নামে সম্পত্তিও লিখিয়ে নিয়েছিল শ্বেতা বলে অভিযোগ সৈয়দের।