রাজ্যে মোট কত লক্ষ টোটো চলছে, সেই সঠিক পরিসংখ্যান এখনও পরিবহন দফতরের হাতে নেই। যদিও টোটো নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 14 October 2025 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে টোটোকে (Toto) শৃঙ্খলায় আনতে নম্বর প্লেট ও কিউআর কোড আনার উদ্যোগ নিয়েছে পরিবহণ দফতর। তবে এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Supreme Court)। তাঁর কটাক্ষ - মানুষের থেকে নতুন করে টাকা তোলার ছক করছে সরকার।
শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, মোটর ভেইক্যাল অ্যাক্টে ই-রিকশা (E-Ricksaw) ছাড়া রেজিস্ট্রেশন হয় না। রাজ্য সরকার তাই কায়দা করে টোটোর বিজ্ঞপ্তিতে ই-রিকশা অবলিক টোটো লিখে দিয়েছে। যাতে সব জায়গা থেকে হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন, টোটো রেজিস্ট্রেশনের বিরোধিতা তিনি করছেন না। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করেছেন বিজেপি বিধায়ক।
দুর্গাপুজোর অনুদান (Durga Puja Donation) এবছর বাড়িয়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গে বিজেপি দাবি করে, পুজোর টাকা বাড়ানোর সময়ে কোনও সঙ্কোচ দেখা যায় না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই পরিপ্রেক্ষিতে শুভেন্দু বলেন, পুজোর অনুদান বাড়ানো হচ্ছে, এদিকে গরিব টোটোর রেজিস্ট্রেশনের জন্য টাকা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেছেন যাতে রেজিস্ট্রেশনের জন্য হাজার টাকা এবং মাসিক ১০০ টাকা নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা যেন সরকার মকুব করে।
এখানেই থামেননি শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই টোটো নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস আদতে চাইছে ৫ লক্ষ টোটোকে এই রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার। এটাকে অপকর্ম বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর এও মত, তৃণমূলের মিটিং-মিছিলে যখন লোক হবে না, তখন এদের সেখানে ব্যবহার করা হবে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিকভাবে টোটো চালকদের বলির পাঁঠা করার পরিকল্পনা চলছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে মোট কত লক্ষ টোটো চলছে, সেই সঠিক পরিসংখ্যান এখনও পরিবহন দফতরের হাতে নেই। যদিও টোটো নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। অসংখ্য এলাকায় বেপরোয়া টোটো চলাচল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ, অটো ও বাসচালকেরাও। তবু মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, মানুষের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠা টোটো চলাচল বন্ধ করা যাবে না। তাই এবার টোটোকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত পথে আনতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
ইতিমধ্যে জানান হয়েছে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। এরপর যেসব টোটোর নাম তালিকাভুক্ত হবে না, তাদের রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না। একযোগে এই অভিযান চালাবে পুলিশ, পরিবহন দফতর ও টোটো ইউনিয়নগুলি।
ভবিষ্যতে রাজ্যের রাস্তায় অড ও ইভেন নম্বরের ভিত্তিতে টোটো চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ একদিন চলবে অড নম্বরের টোটো, পরদিন ইভেন নম্বরের। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকেই এই নিয়ম চালু করার চিন্তাভাবনা চলছে। এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে সংশ্লিষ্ট পুরসভা ও স্থানীয় থানা।