ছেলের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে জীবনকৃষ্ণের বাবা সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। বলেন, জীবন বিধায়ক হওয়ার পরেই বেআইনি উপায়ে অঢেল সম্পত্তি করেছে!

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 26 August 2025 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA) জীবনকৃষ্ণ সাহা (Jiban Krishna Saha) ইডি (ED) হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরই ফের অস্বস্তি বেড়েছে শাসক শিবিরের। বিজেপির অভিযোগ, একাধিক বিধায়কদের দিয়ে তালিকা বানিয়ে তিনি চাকরিপ্রার্থীদের থেকে টাকা নিয়েছিলেন এবং পরে তা তৃণমূলেরই শীর্ষ নেতাদের কাছে গেছে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে ঠিক এই দাবিই করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। 'প্রমাণ' হিসেবে দেখিয়েছেন একটি ছবি (Photo)।
ছেলের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে জীবনকৃষ্ণের বাবা সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। বলেন, জীবন বিধায়ক হওয়ার পরেই বেআইনি উপায়ে অঢেল সম্পত্তি করেছে! কার্যত এই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করে এদিন শুভেন্দু অধিকারীর খোঁচা, ''জীবনকৃষ্ণ আসল নয়।' তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, সে টাকা তুলেছে। কিছুটা নিজের কাছে রেখে বাকিটা ভাগাভাগি করেছে। এই প্রেক্ষিতেই একটি ছবি দেখিয়েছেন তিনি। তাতে দেখা যাচ্ছে জীবনকৃষ্ণর সঙ্গে রয়েছেন সুব্রত বক্সী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! (যদিও ছবির সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।)

শাসক শিবিরকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ''ছবি কথা বলে। আর এটা পুরনো ছবি নয়, ১২ অগস্টের। সমঝদারো কো ইশারা কাফি হ্যায়।'' তাঁর সাফ কথা, ছবিতে যাদের দেখা যাচ্ছে, দুর্নীতির পুরো টাকা এদের কাছেই গেছে। এই ঘটনায় আরও এক অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকুই এই অভিযোগ করেছেন বলে দাবি শুভেন্দুর।
সম্প্রতি সাংগঠনিক বৈঠক করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু বলছেন, ওই বৈঠকে আদতে কী নিয়ে কথা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। দল নিয়ে কথা না হয়ে আসলে দুর্নীতির টাকা লেনদেন নিয়ে কথা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। জীবনকৃষ্ণর কাছে যে টাকা ছিল তার হিসেব-নিকেশ হচ্ছিল বলেও মনে করেন বিরোধী দলনেতা।
গোটা বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের সারসংক্ষেপ - শুধু জীবনকৃষ্ণ, পার্থ চট্টোপাধ্যায় নন, পুরো তৃণমূল দলটাই চোর এবং এর মাথা হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি চান, বাংলার মানুষ শুধু বিজেপিকে একটি সুযোগ দিন, তাহলে কোনও ইডি-সিবিআই লাগবে না, রাজ্য পুলিশ দিয়েই দুর্নীতি রোধ করা যাবে, দুর্নীতিবাজদের বরবাদ করা যাবে।
প্রসঙ্গত, জীবনকৃষ্ণর বাবা বিশ্বনাথ সাহা শুধু ছেলে নন, জীবনের পিসি তথা কাউন্সিলর মায়া সাহার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, “মায়ার বাড়িতেও ইডির তল্লাশি হওয়া দরকার। ওরাও প্রচুর বেআইনি সম্পত্তি করেছে। আগে কিছুই ছিল না, একটা মিষ্টির দোকান ছিল। সবই জীবনের বিধায়ক হওয়ার পর।”
দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালে সিবিআই গ্রেফতার করেছিল জীবনকৃষ্ণকে। ১৩ মাস জেলে থাকার পর গত এপ্রিলে জামিনে মুক্তি পায়। এবার ইডি তাঁকে গ্রেফতার করতেই ফের আলোড়ন।