বিজেপি বিধায়কের এও দাবি, কান্দি-নবগ্রাম সহ একাধিক এলাকার বিধায়কদের দিয়ে তিনি তালিকা তৈরি করাতেন, টাকার বিনিময় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন।

শুভেন্দু অধিকারী এবং জীবনকৃষ্ণ সাহা
শেষ আপডেট: 25 August 2025 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার আবার গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা (Jibankrishna Saha) । এবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে ইডি (ED)। এবারও নিজের মোবাইল পুকুরে ছুড়ে ফেলে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সফল হননি। আর তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে রাজ্যের শাসক দলকেই নিশানা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জীবনকৃষ্ণ বিপ্লবী না রাজনৈতিক সংগ্রামী, জানতে চেয়েছেন তিনি!
তৃণমূল বিধায়কের (TMC MLA) গ্রেফতারি প্রসঙ্গে শুভেন্দুর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া - 'জীবনকৃষ্ণ ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ভাইপো, কালীঘাটের কাকু, মানিক ভট্টাচার্যের অন্যতম বড় এজেন্ট। বীরভূম-মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত তালিকা তুলে দেওয়া, টাকা লেনদেন, একটা অংশ রাখা, এই ছিল তাঁর কাজ।' বিজেপি বিধায়কের এও দাবি, কান্দি-নবগ্রাম সহ একাধিক এলাকার বিধায়কদের দিয়ে তিনি তালিকা তৈরি করাতেন, টাকার বিনিময় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন। তাই কান টানা হয়েছে ঠিক আছে, মাথাও টানতে হবে। ইডিকে কার্যত 'পরামর্শ' শুভেন্দুর।
আগামী বছরই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন (WB Polls)। তার আগে এই গ্রেফতারি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তুলছে শাসক শিবির। বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কিন্তু শুভেন্দুর কথায়, প্রথম গ্রেফতারি ২০২১ সালে হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্তভার নিয়েছিল। সেই সময় তো কোনও ভোট ছিল না। আর এখন এই গ্রেফতারি হয়েছে পিএমএলএ অ্যাক্টে। তাই ইডি যুক্ত হবেই। তাই এসব অবান্তর কথা।
ইডি যখন সোমবার জীবনকৃষ্ণর বাড়িতে যায় তখন তিনি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। ইডি আসছে জানতে পেরেই বাড়ির পিছনের পাঁচিল টপকে পালাতে গিয়েছিলেন তিনি। তাড়াহুড়োর মধ্যে নিজের মোবাইল ফোন পুকুরের দিকে ছুড়ে দেন। তবে ফোন গিয়ে পড়ে পুকুর পাড়ের পাশের নর্দমায়। শুভেন্দুর খোঁচা, ''শাসক দল যখন বলছে রাজনীতি হচ্ছে, তখন এটাও বলা উচিত যে, কেন তিনি পালাতে গেলেন! উনি যদি বিপ্লবী বা রাজনৈতিক সংগ্রামী হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ইডিকে ফেস করা উচিত ছিল। কিন্তু কী হয়েছে সবাই দেখেছে।''
এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। ২০২৩ সালেও একই ভাবে মোবাইল ছুড়ে দিয়েছিলেন পুকুরে। সেবার অবশ্য ফোনটি পুকুরের জলে পড়েছিল ঠিকই। কিন্তু, পরে সিবিআই পুকুরের জল শুকিয়ে ফোন উদ্ধার করে। এমনকি ল্যাবরেটরিতে সেই ফোনের তথ্য পুনরুদ্ধার করতেও সফল হয় তারা।
সোমবারের তল্লাশি অভিযান শুধু কান্দির বাড়িতে নয়, বিধায়কের পিসি ও শ্বশুরবাড়িতেও চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁরা জীবনকৃষ্ণকে নিজেদের 'হেফাজতে নিতে' সোমবারই ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করবেন।