এরই মধ্যে শহরে দেখা গেছে দু’টি বড় হোর্ডিং, যেখানে মেট্রোর নতুন রুটের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। তবে হোর্ডিংটি কে দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে এই হোর্ডিং ঘিরে শহরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
.jpeg.webp)
মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শহরে হোর্ডিং।
শেষ আপডেট: 22 August 2025 23:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার কলকাতার পথে নতুন মেট্রোর সূচনার মধ্য দিয়ে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় শুরু হল (Kolkata Metro New Chapter)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এক সঙ্গে তিনটি মেট্রো রুট—নোয়াপাড়া–জয় হিন্দ বিমানবন্দর, শিয়ালদহ–এসপ্ল্যানেড এবং বেলেঘাটা–রুবির মোড়–উদ্বোধন করেছেন। এর ফলে হাওড়া থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, কবি সুভাষ থেকে বেলেঘাটা, আর নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর, শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তবে এই প্রকল্পের ‘ক্রেডিট কার তা’ নিয়েই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তর্ক। বাম, বিজেপি থেকে তৃণমূল—সবাই নিজেদের কৃতিত্ব দাবি করেছে। এমনকী এক সময় মোদী মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়ও দাবি করেছেন, প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি প্রকল্প তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
এরই মধ্যে শহরে দেখা গেছে দু’টি বড় হোর্ডিং, যেখানে মেট্রোর নতুন রুটের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। তবে হোর্ডিংটি কে দিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে এই হোর্ডিং ঘিরে শহরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় পরিকাঠামো প্রকল্প ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রো। সিপিএম তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে, ২০০৯ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময় প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
কেন্দ্রের মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবি, কেন্দ্র অর্থ না দিলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতো না। ইতিহাসে দেখা যায়, ব্রিটিশ শাসনের সময়ও ইস্ট-ওয়েস্ট ট্রেনের পরিকল্পনা হয়েছিল, তবে তা ভাবনাতেই সীমিত ছিল। ২০০১ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য জাপান সফরের পর জেবিআইসি ঋণ নিয়ে প্রকল্প প্রস্তাব করেন। ইউপিএ জমানায় শিল্যান্যাস অনুষ্ঠানে প্রণব মুখার্জী উপস্থিত ছিলেন।
এরপরও প্রকল্পের বাস্তবায়ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেলমন্ত্রীত্বে শহরের জন্য সুবিধাজনকভাবে এগোনোর সূত্রপাত করে। আর প্রকল্পের বড় অংশ শেষ হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সময়েই। শুক্রবার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মেট্রো রুট অবশেষে শহরের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত হল। তবে এই প্রকল্পের ক্রেডিট কার, নিয়ে বিতর্কে অব্যাহত।