নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শহরজুড়ে উত্তেজক পরিস্থিতি। নবান্ন তো কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকা থেকে শুরু করে সাঁতরাগাছি, হাওড়া ময়দান, ধর্মতলা চত্বরে পুলিশি ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 9 August 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Case) সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের দাবিতে শনিবার হতে চলেছে নবান্ন অভিযান (Nabanna Abhijan)। নির্যাতিতার বাবা-মাই এই অভিযানের ডাক দিয়েছেন। এতে যোগ দেবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। তার আগে নবান্ন অভিযান প্রসঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের বিশেষ বার্তা দিলেন। সতর্ক করে বললেন - পুলিশ উস্কানি দিতে পারে, তবে কেউ সংঘাতে জড়াবেন না।
নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শহরজুড়ে উত্তেজক পরিস্থিতি। নবান্ন তো কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকা থেকে শুরু করে সাঁতরাগাছি (Santragachi), হাওড়া ময়দান, ধর্মতলা চত্বরে পুলিশি ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে এইসব জায়গা। তবে প্রতিবাদীরা নবান্ন অভিযান সম্পন্ন করতে ১০০ শতাংশ তৎপর। এই প্রসঙ্গেই শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমে বলেন, যেখানে আটকানো হবে সেখানে তাঁরা বসে যাবেন, অবস্থান করবেন। এতে যদি পুলিশ গ্রেফতার করে বা গুলি করে, সেটা তাদের ব্যাপার।
বিধানসভার (Bidhansabha) বাইরে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, ''পুলিশ আদতে আমাদের বন্ধু। তারাও পরিবর্তন চায়। কিন্তু মমতার কথা না শুনলে শাস্তি হয়। তাই সকলকে বলব, এদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন না। কোথাও কেউ বচসা করবেন না। আসলে মমতার পুলিশ উস্কানি দিতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।'' শুভেন্দুর খোঁচা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সত্যিকারের ভয় পেয়েছেন, তাই যেভাবে হোক অভিযান বন্ধ করতে মরিয়া তারা।
শনিবারের নবান্ন অভিযানে যোগ দেওয়া নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারী আদতে রাজনীতি করছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টত বলেন, ''আমি রাজনীতি করছি না, প্রতিবাদ করছি। বিরোধী দলনেতা মানে শুধু বিজেপির নয়, রাজ্যের সরকার এবং সরকারি দলের দ্বারা যে আক্রান্ত হবে, তার নেতা। তার পাশে থাকা আমার কর্তব্য। এই অভিযানেও এসেছি কারণ এটি নির্যাতিতার বাবা-মা ডেকেছেন।''
ইতিমধ্যে নবান্ন অভিযান ডাকা নির্যাতিতার বাবা-মাকে পুলিশি নোটিস দেওয়া নিয়ে শোরগোল। সেই ইস্যুতে রাজ্য সরকার কার্যত ধিক্কার জানান শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়, লজ্জাজনক, নিম্নমানের এবং নিম্নরুচির পরিচয়। আদালত বলেছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার সকলের রয়েছে। তারপরও এমনভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শুভেন্দুর সংযোজন, ''শান্তিপূর্ণই আন্দোলন হবে। তবে মমতা এবং তাঁর পুলিশ উস্কানি দিচ্ছে, ফলাফল তাদের হাতে।''
প্রসঙ্গত, শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু নবান্ন অভিযান নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, নবান্ন অভিযানে অভয়ার মা-বাবার ডাকে যাঁরা সামিল হবেন, তাঁদের কারও গায়ে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ হাত তোলে, তাহলে গোটা পশ্চিমবঙ্গ ৭২ ঘণ্টা স্তব্ধ করে দেওয়া হবে! তার দায় সম্পূর্ণভাবে নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। সেই প্রেক্ষিতে বলা যায়, নবান্ন অভিযানে পুলিশি প্রস্তুতি যেভাবে নেওয়া হয়েছে, তাতে বড়সড় সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।