তিনি দাবি করেন, কসবা ল’কলেজ ও জোকা ঘটনার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।

দিলীপ ঘোষ।
শেষ আপডেট: 9 August 2025 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করে (RG Kar Case) ডাক্তারি ছাত্রীর নৃশংস খুন ধর্ষণ কাণ্ডের বছর পার। এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের (CBI's role) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও (Dilip Ghosh)।
নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে শুক্রবার রাতভর ধর্না, অবস্থান করেছেন জুনুিয়র চিকিৎসকরা। এ ব্যাপারে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অভয়ার বিচার এখনও পায়নি তার মা-বাবা। সাধারণ মানুষেরও মনে হচ্ছে অভয়ার সুবিচার হয়নি, তাই তারা রাস্তায় নামছে। শাসক দল চাইবে বিষয়টি চাপা দিতে।”
তিনি দাবি করেন, কসবা ল’কলেজ ও জোকা ঘটনার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। অভয়ার পরিবারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “যখন এমন জঘন্য ঘটনার বিচার পাওয়া যায় না, তখন সব পক্ষের বিরুদ্ধেই প্রশ্ন ওঠে। আদালতের কাছে গিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করার আবেদন করা উচিত। অনেক তথ্য উপেক্ষা করা হয়েছে। যাদের দিয়ে তদন্ত হয়েছে তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের দিয়ে করানো উচিত। কিন্তু সুবিচার অবশ্যই হওয়া প্রয়োজন।”
দিলীপ ঘোষের মতে, গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন হলে সরকার মামলা দিয়ে দমন করার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, “বড় ঘটনা হলে, যাতে সরকারের ইমেজ খারাপ হয়, তখন সরকার ভয় দেখায়। ডাক্তারদের বশে আনতে সাসপেন্ড, ট্রান্সফার—সবই করেছে তারা। সরকার ভয় পেলে স্বেচ্ছাচারী হয়ে যায়।”
নবান্ন অভিযান ঘিরে প্রশাসনের নিরাপত্তার বহরকে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, “তৃণমূল সরকার ভয়ের মধ্যে আছে। এটা এখন গণআন্দোলন হয়ে গেছে। দলের আন্দোলনে কতজন আসবে বোঝা যায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের মন বোঝা যায় না। আজ রাস্তায় নামলে কত মানুষ আসবে আন্দাজ করতে পারছে না সরকার, তাই ভয় পাচ্ছে।”
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়েও মুখ খুলেছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি। তিনি বলেন, “সারা ভারতে বিদেশীরা ভোটার হয়ে ভোটকে প্রভাবিত করছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে কমিশন কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। বিহারে সফল হওয়ায় বাংলাতেও আশা জেগেছে যে ফ্রি ও ফেয়ার ইলেকশন সম্ভব। কিন্তু রাজ্যের সরকার বাংলাদেশি ভোটে জিততে চায়, তাই তাদের তালিকায় রাখা হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, যেসব অফিসার সাসপেন্ড হয়েছেন, তাদেরকেই কাজে লাগানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মানতে রাজ্য সরকারের অনীহা নিয়েও তিনি কটাক্ষ করেন, “দেশের নির্বাচন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন করায়। তারা যদি ভোট না করানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ভোট হবে না। আজ না হলে কাল, মানতেই হবে।”
শুভেন্দু অধিকারীর পরিবারকে নিয়ে অখিল গিরির সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অখিল গিরি সবসময়ই ‘আরা-টেরা’ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল নিয়েও অনেক অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। যারা হিন্দু শরণার্থী হিসেবে ভারতে এসেছেন, ভারত তাদের জায়গা দিয়েছে। এখন তো আইনও হয়ে গেছে। উনি মন্ত্রী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু মাথাটা একটু ঠিক রাখা দরকার।”