মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের যোগ রয়েছে এবং তাঁর কাছে নাকি তার প্রমাণও আছে। এই মন্তব্যের পরই মুখ্যমন্ত্রীকে মানহানির আইনি নোটিস পাঠান শুভেন্দু।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 14 January 2026 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা পাচার মামলার (Coal Smuggle Case) তদন্ত ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আইনি টানাপড়েন এবার আদালতের দিকে গড়াতে চলেছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) পাঠানো মানহানির আইনি নোটিসের নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মুখ্যমন্ত্রীর তরফে কোনও জবাব মেলেনি বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু। সেই প্রেক্ষিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) যোগ রয়েছে এবং তাঁর কাছে নাকি তার প্রমাণও আছে। এই মন্তব্যের পরই মুখ্যমন্ত্রীকে মানহানির আইনি নোটিস (Defamation Case) পাঠান শুভেন্দু। ওই নোটিসে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত তথ্য, নথি ও প্রমাণ প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতার আইনজীবী।
কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লেখেন, মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে এবং তাঁর আচরণেই স্পষ্ট, কয়লা কেলেঙ্কারিতে শুভেন্দুর নাম জড়িত থাকার অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। শুভেন্দুর অভিযোগ, এই সবই মুখ্যমন্ত্রীর 'কল্পিত ও মস্তিষ্কপ্রসূত' অভিযোগ, যার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন।
বিরোধী দলনেতা আরও লেখেন, মুখ্যমন্ত্রী সম্ভবত বুঝে উঠতে পারেননি কী উত্তর দেবেন। সেই সঙ্গেই কড়া সুরে তিনি বলেন, “এবার উনি আদালতে আইনি পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার আপনার সঙ্গে আদালতেই দেখা হবে।”
Mamata Banerjee seems to be at wits end. The time given to Mamata Banerjee vide the Defamation Notice on my behalf has now expired and being in a fix has prevented her from replying.
The Chief Minister by her conduct has made it clear that her imaginary allegations pertaining to…— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) January 14, 2026
শুভেন্দুর দাবি, এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে ওই নোটিসের কোনও লিখিত বা মৌখিক জবাব তিনি পাননি। সেই কারণেই আইনি লড়াইয়ের পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশি ঘিরে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ মিছিল শেষে এক জনসভা থেকে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারী ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নাম করে হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেন, “আপনাদের এখনও ভাগ্য ভাল। আমি চেয়ারে আছি বলেই ওই পেনড্রাইভগুলি এখনও বাইরে বের করিনি। আমার কাছে সব পেনড্রাইভে রাখা আছে। বাড়াবাড়ি করলে ফাঁস করে দেব।”
একই সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সৌজন্যতা মেনে চলি। কিন্তু লক্ষ্মণরেখা বলে একটা আছে। সেটা পেরিয়ে গেলে আর সামলে রাখতে পারবেন না।”
এই মন্তব্যগুলিকেই মানহানিকর বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুধু মানহানিকরই নয়, ব্যক্তিগত কটাক্ষ ও অশালীন ইঙ্গিতেও ভরা। শুভেন্দুকে ‘দত্তক সন্তান’ বলার মতো মন্তব্যকে রুচিহীন বলে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন ভাষা অনুচিত। এতে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সামাজিক মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা।
এখন সব নজর, এই রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত শেষ পর্যন্ত আদালতে কোন পথে গড়ায়, সেদিকেই।