একরাশ বিরক্তি নিয়ে এদিন মমতা বলেন, “এখানকার ইলেকশন কমিশনের এক ভুঁড়িওয়ালা আধিকারিক, টাকা রাস্তায় ছোড়া থেকে শুরু করে নানা কেলেঙ্কারির নায়ক। নাম বলছি না, নাম মনে পড়লেই লজ্জা লাগে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 13 January 2026 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে নাম না করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে (Manoj Agarwal) নজিরবিহীন আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
একরাশ বিরক্তি নিয়ে এদিন মমতা বলেন, “এখানকার ইলেকশন কমিশনের এক ভুঁড়িওয়ালা আধিকারিক, টাকা রাস্তায় ছোড়া থেকে শুরু করে নানা কেলেঙ্কারির নায়ক। নাম বলছি না, নাম মনে পড়লেই লজ্জা লাগে।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ওই আধিকারিক একটি তালিকা দেখিয়ে দাবি করেছেন, তৃণমূলের (TMC) তরফে নাকি আট জনের ‘ক্লেম অ্যান্ড অবজেকশন’ জানানো হয়েছে। কিন্তু সেই তালিকা প্রকাশই করা হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, “লিস্টই যদি না দেখানো হয়, তাহলে মানুষ জানবে কী করে? নোটিস পাওয়ার পরেই তো তারা জানতে পারছে। কখনও আবার অ্যাম্বুল্যান্সে করে শুনানিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে— তখন গিয়ে বিষয়টা বুঝছে।”
সিইও-কে নিশানা এই প্রথম নয়। গত বছর অক্টোবরেও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বলে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা জানিয়েছিলেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের ‘বসিয়ে’ রেখে রাজ্যের সিইও ‘অতি সক্রিয়তা’ দেখাচ্ছেন। সিইওর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে বলেও দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারিও দেন সিইও-কে। যা নিয়ে নির্বাচন কমিশন অসন্তোষ প্রকাশ করে।
বস্তুত, এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ওড়িশা থেকে লোক এনে বাংলায় ভোট দেওয়ানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন থানার আওতায় ইআরও ও ডিএম অফিস থেকে নাকি একেক জায়গায় ১০ হাজার করে নাম ‘ব্ল্যাক’ করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “এটা করা যায় না। ওদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। খাতরাতে ধরা পড়েছে। মালদহে লোক ফেলে রেখে পালিয়ে গিয়েছে।”
শুনানির সময়সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এখন বলা হচ্ছে ১৩-১৪ তারিখ পর্যন্ত হিয়ারিং হবে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা হোয়াটসঅ্যাপে জানানো হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, “বিজেপি যা বলছে, উনি প্রতি মুহূর্তে সেটাই বদলাচ্ছেন।”
মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর প্রশ্ন, “যা কোনও রাজ্যে নেই, তা বাংলায় কেন? এরা তো অ্যালাওড নয়। অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর, নাগাল্যান্ডে এসআইআর হয়নি কেন? ক’টা রাজ্যে মাইক্রো-অবজার্ভার আনা হয়েছে?” নির্বাচন কমিশনের প্রতি সম্মান রেখেই তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে সম্মান করি। কিন্তু নিয়ম মেনে চলতেই হবে।”
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে নবান্ন থেকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নির্বাচন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।