ভোটের আগে এমন সংবেদনশীল নথি কী ভাবে একটি রাজনৈতিক দলের গাড়িতে এল, কার নির্দেশে সেগুলি ভরা হয়েছিল, এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই এখন খাতড়া থানায় জোরদার তদন্ত চলছে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 13 January 2026 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের অন্ধকারে একটি রহস্যজনক গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি নেতাদের একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩,০০০ থেকে ৪,০০০টি ফর্ম ৭—ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার আবেদনপত্র। শুধু তাই নয়, ফর্মগুলির অধিকাংশেই আগে থেকেই লেখা ছিল জেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য। পুলিশ সূত্রের দাবি, তার বড় অংশই বাঁকুড়ার তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রের।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে তিনি বলেন, “একটা ছবি দেখাচ্ছি। গাড়িতে করে প্রায় ১০ হাজার ফর্ম নিয়ে গেছে ডিলিট করার জন্য। ফাইলের পর ফাইল, বস্তায় বস্তায় কাগজ।"
এরপরই কমিশন-বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এগুলো মানুষের অধিকার চুরি নয়? তথ্য চুরি করছে, গণতন্ত্র চুরি করছে। জ্যান্ত মানুষকে মেরে ফেলতে চাইছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর এসআইআর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার আবহ আরও বেড়েছে।
সূত্রের খবর, ঘটনাস্থলে থাকা গাড়িটিতে পাঁচজন বিজেপি কর্মী ছিলেন। স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় তল্লাশি শুরু হতেই গাড়ির ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ ফর্ম উদ্ধার হয়। দু’জনকে ধরে ফেলা সম্ভব হলেও, বাকি তিনজন অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়। ধৃত দু’জনকে খাতড়া থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ফর্ম ৭ মূলত ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার আবেদনপত্র। অভিযোগ, সেই ফর্মগুলিতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট ভোটারদের নাম ও ঠিকানা ভরা ছিল। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, পরিকল্পিত ভাবেই কি নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ভোটারদের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল?
তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, “এটা নিছক কাগজপত্র নয়, এটা সরাসরি গণতন্ত্রের উপর আঘাত।” তাঁদের দাবি, তালডাংরার বহু সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ভোটারকে লক্ষ্য করেই এই ফর্মগুলো ভরা হয়েছিল। সাংবাদিক বৈঠক থেকে একই কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীও।
অন্য দিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলীয় সূত্রে গোটা ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ভোটের আগে এমন সংবেদনশীল নথি কী ভাবে একটি রাজনৈতিক দলের গাড়িতে এল, কার নির্দেশে সেগুলি পূরণ করা হয়েছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই এখন খাতড়া থানায় জোরদার তদন্ত চলছে। তালডাংরার এই ঘটনা নির্বাচনী আবহে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।