ইডির দাবি, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 13 January 2026 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain, ED, I PAC) বাড়িতে তল্লাশিকে ঘিরে নাটকীয় মোড়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee), রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও কলকাতা পুলিশের নগরপাল মনোজ ভার্মার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)) ১৭টি ধারায় মামলা দায়েরের আবেদন করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযোগ, তল্লাশির সময় জোর করে ঢুকে তথ্যপ্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, এমনকি পঞ্চনামা তৈরিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।
ইডির পিটিশনে বলা হয়েছে, কোনও অনুমতি ছাড়াই প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা বাজেয়াপ্ত করা নথি এবং ডিজিটাল তথ্য নিজেদের হাতে নিয়ে যান। এমনকি সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও পিটিশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ইডির দাবি, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, ফলে সঠিক ভাবে পঞ্চনামা রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫ ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘চুরি’র অভিযোগ আনার আবেদন। ইডির বক্তব্য, তল্লাশির সময় প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে তথ্যপ্রমাণ নিয়ে যাওয়া আইনত চুরির শামিল। একই সঙ্গে ডিজি ও সিপির বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এতেই থামেনি কেন্দ্রীয় এজেন্সি। শেক্সপিয়ার সরণী ও ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে যে এফআইআরগুলি হয়েছে, সেগুলি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ, যা পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে, তা সিবিআইকে হস্তান্তরের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। মামলার যাবতীয় খরচ মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের উপর চাপানোর দাবিও তুলেছে ইডি।
এই আবেদনের পাল্টা তীব্র প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের। রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন, “ইডিকে ওপর থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। চার বছর ধরে যদি কোনও অভিযোগ ছিল, এতদিন নোটিস গেল না কেন? ভোটের মুখে হঠাৎ কেন অভিযান?” আই-প্যাকের অন্য ডিরেক্টরদের বাড়িতে না যাওয়ার বিষয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কী অবস্থান নেয়, তার দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতির সব পক্ষ।