শুভেন্দুর সাফ কথা, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের সকল নেতাদের শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে এই হামলা করা হয়েছিল। তাঁর এও অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করেই এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
.jpg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 13 January 2026 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শনিবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে চন্দ্রকোনা রোডে বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁর কনভয় (Suvendu Adhikari Convoy Attacked)। এই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে, চাওয়া হয়েছে সিবিআই তদন্ত। মঙ্গলবার চন্দ্রকোণায় দাঁড়িয়ে সেই ঘটনারই বিবরণ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
চন্দ্রকোনায় জনসভা করে এই হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। অভিযোগের সুরে বলেন, বাংলাদেশে যেমন হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর অতর্কিতে হামলা (Bangladesh Minority Attack) চালানো হচ্ছে, খুন করা হচ্ছে, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই এখন বাংলায় আক্রমণ করা হচ্ছে বিরোধী দল এবং তার নেতাদের।
শুভেন্দুর সাফ কথা, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের সকল নেতাদের শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে এই হামলা করা হয়েছিল। তাঁর এও অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করেই এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাই এই আবহে শুভেন্দু অধিকারীকেই পুলিশি নোটিস আলাদা করে উত্তাপ বাড়িয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে।
ঠিক কী হয়েছিল?
প্রসঙ্গত, শনিবার পুরুলিয়া থেকে জনসভা সেরে মেদিনীপুরে ফিরছিলেন শুভেন্দু। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে বিজেপির (BJP) কর্মী সমর্থকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, সেইসময়েই তৃণমূল আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী দলীয় পতাকা হাতে জয় বাংলা স্লোগান তোলেন। তাঁদের থামতে বলা হলে পাল্টা হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে চন্দ্রকোনা রোডের সাতবাঁকুড়ার কাছে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। সেইসময়েই শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) গাড়ি সেখানে পৌঁছলে তাঁর কনভয়ের ওপরও হামলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
শুভেন্দুর কী অভিযোগ
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, 'তাঁর কনভয় যাওয়ার সময় একদল দুষ্কৃতী বাঁশ, লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয়। গাড়ির কাঁচে লাঠি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা হয়।' সেইসময় তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, কিন্তু অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ আসেনি বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার। ঘটনার পরেই তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে সোজা চলে যান চন্দ্রকোনা রোড ফাঁড়িতে। এই গোটা ঘটনাটিকে 'পরিকল্পিত চক্রান্ত' বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্থানীয় থানার আইসির ঘরের মেঝেতে বসে পড়ে শুভেন্দুর দাবি ছিল, দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তিনি অবস্থান থেকে উঠবেন না। পুলিশ তাঁকে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে অনুরোধ করলেও, শুভেন্দু তাতে রাজি হননি। চার ঘণ্টার বেশি সময়ে সেখানে ছিলেন বিরোধী দলনেতা। কিছুক্ষণ পর তিনি ফাঁড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান।
কী বলছে তৃণমূল
তৃণমূল প্রথম থেকেই শুভেন্দুর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কোনও হামলাই হয়নি। তাঁদের কথায়, অঞ্চল অফিসের সামনে চায়ের দোকানে কয়েকজন তৃণমূল কর্মী বসেছিলেন। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারীকে স্বাগত জানাতে বিজেপি সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান-যুদ্ধ শুরু হয় কিন্তু বিরোধী দলনেতার দাবি অনুযায়ী হামলা নয়।