বাঙালিদের উপর ‘অত্যাচার’-এর প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণা করেছিলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উপর কোনও আঘাত বরদাস্ত করা হবে না।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 22 July 2025 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নতুন করে ভাষা আন্দোলনের (Language) ডাক দিয়েছেন। সেই ঘোষণা ঘিরে তৈরি হল রাজনৈতিক তরজা। ধর্মতলার সমাবেশ থেকে ভিনরাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিদের উপর ‘অত্যাচার’-এর প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণা করেছিলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির উপর কোনও আঘাত বরদাস্ত করা হবে না। সেই সুরে সুর মিলিয়ে ২৭ জুলাই থেকে ‘নানুর দিবস’-এর মাধ্যমে শুরু হবে প্রতিবাদ কর্মসূচি, চলবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত।
তবে এই ঘোষণাকে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন — “বাংলা ভাষা রক্ষা করার উনি কে?”
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস যে ভাষা-সংস্কৃতির ‘অপমান’ সহ্য করবে না, তা স্পষ্ট করেই জানিয়েছে। কিন্তু শুভেন্দুর পালটা কটাক্ষ — “যাঁরা নিজেরাই অতীতে বাংলাকে অপমান করেছেন, তাঁদের মুখে আজ বাঙালির অধিকার নিয়ে কথা শোভা পায় না।”
মুখ্যমন্ত্রীর অতীত আচরণ তুলে ধরে শুভেন্দুর মন্তব্য, “প্রণব মুখোপাধ্যায়কে রাষ্ট্রপতি করার প্রস্তাব উঠলে প্রথম বিরোধিতা করেছিলেন মমতা নিজেই। যাঁদের এখন গালাগালি করেন, সেই বিজেপিরই প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বাঙালি — ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রাক্তন উপদেষ্টা ছিলেন একজন বাঙালি। এমনকী বর্তমান অর্থনৈতিক উপদেষ্টাও বাঙালি। সম্প্রতি যিনি হরিয়ানার রাজ্যপাল হয়েছেন, তিনিও একজন বাঙালি। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নাটক করে কোনও লাভ হবে না।”
তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের ডাক এবং বিজেপির পাল্টা অভিযোগ — দুইয়ে মিলে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে বাংলা ও বাঙালিয়ানা। ২১ জুলাইয়ের পর রাজনৈতিকভাবে এই ইস্যু যে আরও উস্কে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।