অনেক আগেই তৃণমূলের সংখ্যালঘু বিধায়কদের চ্যাংদোলা করে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কার্যত তাঁকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের দলের ৯০ জন বিধায়ককে নিয়ে বিধানসভায় ঢোকার পণ নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর।

শুভেন্দু অধিকারী এবং হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 22 December 2025 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'জনতা উন্নয়ন পার্টি'। ২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজের দল ঘোষণা করেছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর দল গঠন এবং আসন্ন ভোট সংক্রান্ত দাবিদাওয়া নিয়ে চরম কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সর্বপ্রথমেই তিনি হুমায়ুনের দলের নাম নিয়ে টিপ্পুনি কেটেছেন।
'ওটা জামাত উন্নয়ন পার্টি রাখা উচিত ছিল। নামটা ভুল হয়ে গেছে।' হুমায়ুন কবীরের দল প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে হুমায়ুন ৯০ আসনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় আসার যে দাবি করেছেন তার প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতার স্পষ্ট বক্তব্য - আগে আসুক, তারপর দেখা যাবে।
অনেক আগেই তৃণমূলের সংখ্যালঘু বিধায়কদের চ্যাংদোলা করে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কার্যত তাঁকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের দলের ৯০ জন বিধায়ককে নিয়ে বিধানসভায় ঢোকার পণ নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। পাশাপাশি শুভেন্দু এবং শিশির অধিকারীর নাম নিয়ে বলেছেন - কারও ক্ষমতা নেই তাঁকে আটকানোর। এই পরিপ্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিরোধী দলনেতার সাফ কথা - হুমায়ুন যদি এখনও মনে মনে তৃণমূল করে থাকেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় আর আইপ্যাকের টাকায় করে থাকেন তাহলে আমার কথায় ওঁর গায়ে লাগতে পারে। আমি শুধু বলেছিলাম তৃণমূলের কোনও মুসলিম বিধায়ক ভোটে জিতে আসতে পারবে না। আমি তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনও মুসলিম বিধায়কদের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি।
প্রসঙ্গত, নিজের দল ঘোষণা করে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তিনি লড়বেন রেজিনগর ও বেলডাঙা থেকে। আরেক হুমায়ুন কবীর, যিনি পেশায় ডাক্তার, তিনি রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়তে চলেছেন। এখানে বলে রাখা ভাল, ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চিকিৎসককে তৃণমূলের প্রার্থী করেছিলেন। যদিও তিনি হেরে যান। অন্যদিকে, কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা, যেখানে উপনির্বাচনে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন, সেই কেন্দ্র থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে লড়াই করবেন নিশা চট্টোপাধ্যায়।
আর একজন হুমায়ুন কবীর লড়বেন ভগবানগোলায়। পেশায় তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ ৬৪ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়বেন মনীষা পান্ডে। অর্থাৎ, যা দাঁড়াল, তা হল চার চারটি আসনে লড়ছেন ভিন্ন ভিন্ন হুমায়ুন। দু'টিতে একা দলনেতা হুমায়ুন কবীর। বাকি দুটিতে আরও দুই।
তাঁর লক্ষ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জয়ী হওয়া। কারণ হুমায়ুন মনে করেন, তৃণমূল বা বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে, তারা কেউই তাঁকে মসজিদ গড়তে দেবে না। তাই সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে অন্তত ৯০টি আসনে জেতাতে হবে তাঁর নতুন দলকে।