৫ ফুট উঁচু লোহা, অ্যালুমিনিয়ামের স্ট্যান্ড। বেলডাঙায় হুমায়ুন কবীরদের মঞ্চের কাঠামোটা এমনই। দল ঘোষণা সময়ের অপেক্ষা। সোমবার এই মঞ্চ থেকেই দলের কাঠামো তৈরি করে ফেললেন ভরতপুরের বিধায়ক (Bharatpur)।
.jpeg.webp)
হুমায়ুনের প্রার্থী ঘোষণা
শেষ আপডেট: 22 December 2025 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫ ফুট উঁচু লোহা, অ্যালুমিনিয়ামের স্ট্যান্ড। বেলডাঙায় হুমায়ুন কবীরদের মঞ্চের কাঠামোটা এমনই। সোমবার এই মঞ্চ থেকেই জনতা উন্নয়ন পার্টির কাঠামো তৈরি করে ফেললেন ভরতপুরের বিধায়ক (Bharatpur)। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাপতি হিসেবে হাজি ইব্রার হোসেন-এর (Ibrar Hussain) নাম ঘোষণা করলেন। জানালেন, তিনিই খড়্গপুর গ্রামীণে সামনের বিধানসভা নির্বাচনে 'জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীকে লড়াই করবেন। হুমায়ুন জানালেন, তিনি নিজে ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন। পাশাপাশি তালিকায় রয়েছেন আরও কয়েকজন হুমায়ুন (Humayun Kabir New Party)।
হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তিনি লড়বেন রেজিনগর ও বেলডাঙা থেকে। আরেক হুমায়ুন কবীর, যিনি পেশায় ডাক্তার, তিনি রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়তে চলেছেন। এখানে বলে রাখা ভাল, ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চিকিৎসককে তৃণমূলের প্রার্থী করেছিলেন। যদিও তিনি হেরে যান। অন্যদিকে, কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা, যেখানে উপনির্বাচনে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন, সেই কেন্দ্র থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে লড়াই করবেন নিশা চট্টোপাধ্যায়।
আর একজন হুমায়ুন কবীর লড়বেন ভগবানগোলায়। পেশায় তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ ৬৪ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়বেন মনীষা পান্ডে। অর্থাৎ, যা দাঁড়াল, তা হল চার চারটি আসনে লড়ছেন ভিন্ন ভিন্ন হুমায়ুন। দু'টিতে একা দলনেতা হুমায়ুন কবীর। বাকি দুটিতে আরও দুই।
হুমায়ুন আগেই জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জয়ী হওয়াই তাঁর লক্ষ্য। কারণ, তৃণমূল বা বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে, তারা কেউই হুমায়ুনকে মসজিদ গড়তে দেবে না। তাই সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে অন্তত ৯০টি আসনে জেতাতে হবে তাঁর নতুন দলকে।
হুমায়ুনের সভাস্থল ৪৯ বিঘা জমিতে তৈরি হয়েছে। মঞ্চ ২৩০ ফুটের। এই মঞ্চ থেকেই দলীয় পতাকা, ইস্তেহার এবং প্রার্থী ঘোষণা করেছেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। দলের পতাকায় রয়েছে তিনটি রং— হলুদ, সবুজ এবং সাদা।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নওসাদ সিদ্দিকির (Naushad Siddiqui) নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল 'ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট' বা আইএসএফ (Indian Secular Front)। সেই দল থেকে বিধায়কও নির্বাচিত হন নওসাদ। সেই নজির সামনে রেখেই অনেকে মনে করছেন, ২০২৬-র আগে হুমায়ুন কবীরের দল রাজনীতির ময়দানে নতুন অঙ্ক কষতে পারে।