তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আজই তাঁর নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা করতে চলেছেন। মুর্শিদাবাদে জনসভার আগে প্রকাশ্যে এল পতাকা।

হুমায়ুন কবীর (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 22 December 2025 11:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি দল। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) আজ, সোমবার নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করতে চলেছেন। তার আগেই দলের নাম প্রকাশ্যে আসে। প্রকাশিত হয়েছে, দলীয় পতাকাও। নতুন দলের সম্ভাব্য নাম 'জনতা উন্নয়ন পার্টি' (Janata Unnayan Party)।
বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলাতে চাইছেন হুমায়ুন কবীর। সোমবার দুপুর ১টায় মির্জাপুর মোড়ে জনসভা ডেকে নতুন দলের কথা ঘোষণা করবেন তিনি। সভা শুরু হবে ১২টায়। ওই সভা থেকেই দলের নাম, কর্মসূচি ও প্রাথমিক রূপরেখা ঘোষণা হওয়ার কথা। শুধু তাই নয়, প্রথম দফাতেই পাঁচজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নামও প্রকাশ করতে পারেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা। ইতিমধ্যেই দলের ফ্লেক্স-ব্যানারে ছেয়ে গেছে মুর্শিদাবাদ।
বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন দলের আবির্ভাব অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নওসাদ সিদ্দিকির (Naushad Siddiqui) নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল 'ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট' বা আইএসএফ (Indian Secular Front)। সেই দল থেকে বিধায়কও নির্বাচিত হন নওসাদ। সেই নজির সামনে রেখেই অনেকে মনে করছেন, ২০২৬-র আগে হুমায়ুন কবীরের দল রাজনীতির ময়দানে নতুন অঙ্ক কষতে পারে।
প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন হুমায়ুন। এর আগে ২০১৬ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন। তখন তাঁর প্রতীক ছিল টেবিল (Table Symbol)। সূত্রের দাবি, নতুন দলের জন্যও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে টেবিল প্রতীকই প্রথম পছন্দ হিসেবে চাইবেন। যদি সেই প্রতীক না মেলে, তবে দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে জোড়া গোলাপ (Twin Rose) প্রতীক চাওয়ার হতে পারে। কারণ গোলাপ তাঁর পছন্দ।
নতুন দল নিয়ে হুমায়ুন কবীরের দাবি যথেষ্ট বড়। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল ও বিজেপি (BJP) বিরোধী সকলের জন্য জনতা উন্নয়ন পার্টির দরজা খোলা থাকবে। দল ঘোষণার সভায় লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। মূল মঞ্চে থাকবেন প্রায় ৯০ জন নেতা-কর্মী, সঙ্গে থাকবেন ভিআইপি-রাও (VIP)। রাজ্যজুড়ে দ্রুত কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন এই বিধায়ক।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নামছেন হুমায়ুন, এমনই তাঁর দাবি। জানান, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক শক্তি হবে জনতা উন্নয়ন পার্টি। তবে এই সব দাবি বাস্তবের মাটিতে কতটা দাঁড়ায়, তা সময়ই বলবে। আপাতত ২০২৬ সালের নির্বাচনের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস আপাতত হুমায়ুন কবীরের নতুন দলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। শাসকদলের একাংশের মতে, এই দল রাজ্যের রাজনীতিতে বড় কোনও প্রভাব ফেলবে না। তবে ভোটের অঙ্কে শেষ কথা বলবে জনতা। হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক স্বপ্ন বাস্তব হয় কি না, তার উত্তর মিলবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে।