এসআইআর ইস্যুতে হওয়া এই বৈঠককে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীকেই খোঁচা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এসআইআর নিয়ে নিজেই বেসামাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠক সেটাই প্রমাণ করে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 22 December 2025 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে (Netaji Indoor Stadium) বিএলএ এবং বিএলএ-২দের নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এসআইআর ইস্যুতে হওয়া এই বৈঠককে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীকেই খোঁচা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এসআইআর নিয়ে নিজেই বেসামাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠক সেটাই প্রমাণ করে।
এসআইআর-কে (SIR) শুরু থেকে ঘুর পথে এনআরসি (NRC) করানোর পন্থা হিসেবে দাবি করেছিল তৃণমূল। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি এটি বাংলায় হতে দেবেন না। কিন্তু নির্ধারিত সময়েই বাংলায় এসআইআরের কাজ শুরু হয়। শুভেন্দু অধিকারী বলছেন - প্রথম থেকেই মিথ্যাচার করে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিএএ-কে (CAA) এনআরসি-র সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এখনও তাই করছিলেন। কিন্তু মানুষ সব বুঝে গেছে। কেউই আর তাঁর মিথ্যাচারে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
বিরোধী দলনেতা দাবি করেছেন, এটা প্রমাণ হয়ে গেছে যে নির্বাচন কমিশন (ECI) স্বচ্ছতার সঙ্গে এসআইআরের কাজ করছে। আর এটাই আসল কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয় পাওয়া, খোঁচা তাঁর। এদিকে বারবার অমিত শাহকে (Amit Shah) নিশানা করার প্রসঙ্গে মমতাকে কটাক্ষ করে শুভেন্দুর সংযোজন, ''উনি আরিজ আফতাবকে রেখে রাজ্যের মানুষকে ঠকিয়েছিলেন। উনি রাজীব সিনহার মত অফিসারকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার অফিসে বসিয়ে যা করেছিলেন এখন সেটা করতে পারছেন না, তাই অমিত শাহকে আক্রমণ করছেন।''
যুবভারতী স্টেডিয়ামের মেসিকাণ্ড (Saltlake Stadium Messi) নিয়েও মমতাকে এদিন আবারও খোঁচা দেন শুভেন্দু। বলেন, এমন অবস্থা হয়েছে যে স্টেডিয়ামে আসতেই পারেননি তিনি, মাঝ রাস্তা থেকে ফিরে চলে যেতে হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভাল করে ক্রিসমাস, নিউইয়ার পালন করার 'পরামর্শ' দেন শুভেন্দু। বলেন - আর তো ৪ মাস আছেন, ভাল করে কেক খান, আনন্দ করুন, সময়টা উপভোগ করুন। তারপর সবাই আপনাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেই ডাকবে।
এদিকে আজকের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বিজেপি নিজেদের স্বার্থে সমস্ত এজেন্সিকে ‘দালাল’ বানিয়ে ফেলেছে। খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষ বাদ দেওয়ার পরেও দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে! মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকায় বৈধ ভোটারদের নাম না ওঠা কোনও প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। শুধু বিজেপিই নয়, নির্বাচন কমিশনকেও সেই ষড়যন্ত্রের শরিক বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
একই সঙ্গে বাইরের রাজ্য থেকে মাইক্রো রোল অবজারভার নিয়োগ নিয়ে মমতার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শুভেন্দুর পাল্টা চ্যালেঞ্জ - যদি ৩ হাজার মাইক্রো রোল অবজারভারদের মধ্যে একজনও বাইরের রাজ্য থেকে নিয়োগ করা হয় তাহলে আমি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইব। এমনটা না হলে, ওঁকে ক্ষমা চাইতে হবে।