ঝাড়গ্রামে লোধা শবরদের জন্য এই ধরনের সহায়তা শুভেন্দুর কাছে নতুন নয়। কোভিড পর্বে রাজ্যের মন্ত্রী থাকাকালীনও তিনি নিয়মিত ওই এলাকায় ত্রাণ পাঠিয়েছিলেন। তখন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই সেই উদ্যোগ নেওয়া হত বলে জানা যায়।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 14 January 2026 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti) দিন রাজনীতির পাশাপাশি জনসংযোগেও ব্যস্ত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একদিকে নন্দীগ্রামে (Nandigram) নিয়মিত মকর উৎসব, অন্যদিকে জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামে লোধা শবরদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আলাদা বার্তা দিলেন তিনি।
মকর সংক্রান্তিতে নন্দীগ্রামে বরাবরের মতোই উৎসবের আয়োজন ছিল। খিচুরি ভোগ ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। তবে এদিন সেখানে শুভেন্দু নিজে না গিয়ে নিজের ভাইপো দেবদীপকে পাঠান। কপালে টিকা লাগিয়ে প্রসাদ বিতরণ করতে দেখা যায় দেবদীপকে। নন্দীগ্রামে এই দৃশ্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও নজর কেড়েছে।
নন্দীগ্রামের অনুষ্ঠান সেরে শুভেন্দু পৌঁছে যান ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ায় (Jhargram Manikpara)। সেখানে লোধা শবরদের মধ্যে শীতের কম্বল, গোবিন্দভোগ চাল ও গুড় বিতরণ করেন তিনি। পরে প্রায় দেড় হাজার লোধা শবরকে নিয়ে এক শবর পরিবারের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন বিরোধী দলনেতা। জঙ্গলমহলে তাঁর এই উপস্থিতিকে জনসংযোগের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
ঝাড়গ্রামে লোধা শবরদের জন্য এই ধরনের সহায়তা শুভেন্দুর কাছে নতুন নয়। কোভিড পর্বে রাজ্যের মন্ত্রী থাকাকালীনও তিনি নিয়মিত ওই এলাকায় ত্রাণ পাঠিয়েছিলেন। তখন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই সেই উদ্যোগ নেওয়া হত বলে জানা যায়। বিরোধী দলে থাকলেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন শুভেন্দু।
এই কর্মসূচির মধ্যেই বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) আইনি ধাক্কা খান বিরোধী দলনেতা। নবান্ন অভিযান (Nabanna Abhijan) সংক্রান্ত মামলার প্রাথমিক শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নবান্নের সামনে কোনও ধর্না কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া যাবে না। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের পর্যবেক্ষণে জানানো হয়, বিকল্প জায়গা হিসেবে নবান্ন বাসস্ট্যান্ড বা মন্দিরতলা বিবেচনা করা যেতে পারে।
আদালতের এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, হাইকোর্ট বিকল্প জায়গার কথা বলেছে। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে। তবে নবান্ন বাসস্ট্যান্ডে ধর্নায় বসার প্রশ্নই নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। নবান্নের সামনে অবস্থান প্রসঙ্গে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “আমরা তো নবান্নর ভিতরে গিয়ে বসতাম না!”