ভাইপোকে নন্দীগ্রামে পাঠিয়ে শুভেন্দু এদিন চলে যান ঝাড়গ্রামে। সেখানে লোধা শবরদের মধ্যে শীতের কম্বল ও গোবিন্দভোগ চাল এবং গুড় বিতরণ করেন। তার পর দেড় হাজার লোধা শবরকে নিয়ে এক শবর পরিবারে মধ্যাহ্নভোজ করেন।

শুভেন্দু অধিকারী, দেবদীপ অধিকারী
শেষ আপডেট: 14 January 2026 19:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য রাজনীতিতে ‘ভাইপো’ শব্দটি (Bhaipo/Nephew) বিজেপি নেতাদের (BJP Leaders) মুখে প্রায় নিয়মিত। সেই শব্দ দিয়েই তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhisekh Banerjee) কটাক্ষ করে থাকেন। আর অভিষেক পাল্টা বলেন, সাহস থাকলে তাঁর নাম করে বলুক।
বুধবার সংক্রান্তির দিন সেই ভাইপো শব্দটাই নন্দীগ্রামের (Nandigram) রাজনীতিতে বড় হয়ে উঠল। বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি থেকে নন্দীগ্রামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয় প্রকল্প’ (Sevashray -2) শুরু হওয়ার কথা। তার আগে বুধবার সংক্রান্তির প্রসাদ বিতরণে নিজের ভাইপোকে পাঠিয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা ও স্থানীয় বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী (Bhaipo/Nephew of Suvendu Adhikari)। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি এদিন বলেন, ‘নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) পরাস্ত করেছি। ভাইপোর জন্য আমার ভাইপোই যথেষ্ট’।
শুভেন্দুর ভাইপো কে?
শুভেন্দুরা চার ভাই। বড় ভাই কৃষ্ণেন্দু অধিকারীর ছেলে হলেন দেবদীপ (Debdeep Adhikari)। বয়সে তরুণ। সক্রিয় রাজনীতিতে তিনি রয়েছেন আবার নেইও। ভাইপো অন্ত প্রাণ কাকা। সেই মেজ কাকাকে অনুসরণ করেই এর আগে অল্পবিস্তর দেবদীপকে দেখা গেছিল। সাধারণত নন্দীগ্রামের কোনও কর্মসূচিতে যেতে না পারলে এতদিন শুভেন্দু তাঁর সেজ ভাই তথা তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ দিব্যেন্দুকে পাঠাতেন। কিন্তু বুধবার এই প্রথম নন্দীগ্রামে কাকার প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা গেল দেবদীপকে।
নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় কেন?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় প্রকল্প (Sevashray - 2) এতদিন পর্যন্ত তাঁর লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে (Diamond Harbour) সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এ বার ভোটের আগে কৌশলগত ভাবে সেবাশ্রয়ের পরিধি বাড়িয়েছেন অভিষেক। ডায়মন্ড হারবারের নদী টপকে সেবাশ্রয় পৌঁছে গেছে নন্দীগ্রামে। সেখানকার মানুষকে চিকিৎসার সেবা দিয়ে তাঁদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক মজবুত করার লক্ষ্য তাঁর। বৃহৎ লক্ষ্য শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর নিজের এলাকাতেই চাপে ফেলা।
বুধবার কী ঘটল?
সেই সম্ভাব্য শঠে শাঠ্যংয়ের একটা খণ্ডচিত্র বুধবারই স্পষ্ট হয়ে গেল বলে অনেকের মত। তাঁর নির্বাচন কেন্দ্র তথা নন্দীগ্রামকে (Nandigram) এক প্রকার তুলোয় করে রাখার চেষ্টা করেন শুভেন্দু। অভিষেক যেমন ডায়মন্ড হারবারের ব্যাপারে যত্নশীল, শুভেন্দুও নন্দীগ্রামের ব্যাপারে তেমনই। অতীতে রাজ্যে মন্ত্রী ও হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন আকছার সেখানে গরিব ও অনগ্রসরদের জন্য বিলিবন্টনের ব্যবস্থা করতেন তিনি। কখনও সেলাই মেশিন তো কখনও প্রতিবন্ধীদের জন্য সাইকেল। এ ছাড়া পুজো, ঈদ ও শীতে জামাকাপড় বিলিবন্টন লেগেই ছিল।
মকর সংক্রান্তিতেও (Makar Sankranti) নন্দীগ্রামে বরাবর উৎসব করেন শুভেন্দু। এদিন সেই অনুষ্ঠানই ছিল। তার পর খিচুরি ভোগ ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। দেখা যায়, কপালে টিকা লাগিয়ে শুভেন্দুর ভাইপো দেবদীপ সেই প্রসাদ বিতরণ করছেন।
ভাইপোকে নন্দীগ্রামে পাঠিয়ে শুভেন্দু এদিন চলে যান ঝাড়গ্রামে। সেখানে লোধা শবরদের মধ্যে শীতের কম্বল ও গোবিন্দভোগ চাল এবং গুড় বিতরণ করেন। তার পর দেড় হাজার লোধা শবরকে নিয়ে এক শবর পরিবারে মধ্যাহ্নভোজ করেন।
ঝাড়গ্রামে লোধা শবরদের জন্য এরকম ত্রাণের ব্যবস্থা করে এই প্রথম নয়। অতীতে কোভিডের সময়েও লাগাতার ওই এলাকায় ত্রাণ পাঠিয়েছেন শুভেন্দু। সে সময়ে রাজ্যের মন্ত্রী তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই তখন সে সব পাঠাতেন। এখনও সেই ধারা বজায় রেখেছেন বিরোধী দলনেতা।