আদালত একেবারে ধর্নার অনুমতি নাকচ করে দেয়নি। বিকল্প হিসেবে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ প্রস্তাব দেন, নবান্ন বাসস্ট্যান্ড অথবা চাইলে মন্দিরতলায় সমাবেশ বা ধর্না করা যেতে পারে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 14 January 2026 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্ন অভিযান (Nabanna Abhijan) নিয়ে মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) বড় ধাক্কা খেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নের সামনে ধর্না কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া যাবে না - স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল আদালত। শুক্রবার নবান্নের সামনে বিজেপির প্রস্তাবিত ধর্না নিয়ে করা আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ (Justice Subhra Ghosh) এই মন্তব্য করেন।
নবান্নের সামনে ধর্না বা অবস্থান কর্মসূচির (Dharna At Nabanna) বিষয়ে আদালতের স্পষ্ট আপত্তি রয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মন্তব্য করেন, নবান্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র। সেখানে ধর্না দিলে আইনশৃঙ্খলা এবং যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে ওই জায়গায় ধর্না কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে আদালত একেবারে ধর্নার অনুমতি নাকচ করে দেয়নি। বিকল্প হিসেবে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ প্রস্তাব দেন, নবান্ন বাসস্ট্যান্ড অথবা চাইলে মন্দিরতলায় সমাবেশ বা ধর্না করা যেতে পারে। আদালতের মতে, এই জায়গাগুলিতে ধর্না হলে প্রশাসনিক কাজে সরাসরি বাধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এই প্রেক্ষিতে মামলাকারী পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামীকাল আদালতে জানাতে হবে - নবান্ন বাসস্ট্যান্ড অথবা মন্দিরতলা, এই দুই জায়গার কোনও একটিতে ধর্না করতে তারা আগ্রহী কিনা। সেই তথ্য জানার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
এই মামলার সূত্রপাত হয় আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশি (IPAC ED Raid) এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উপস্থিতি-সহ একাধিক ঘটনার প্রতিবাদে। ওই সব ইস্যুতে সরব হয়ে নবান্নের সামনে শুক্রবার ধর্না কর্মসূচি করতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। সেই আবেদনেই এদিন শুনানি হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার।
শুনানির সময় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “অন্য কোথাও আইন মানা হয়নি - এই যুক্তিতে আমিও আইন মানব না, এটা হতে পারে না।” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, অতীতের কোনও ঘটনা দেখিয়ে আইন ভাঙার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
নবান্ন বাসস্ট্যান্ড নিয়েও রাজ্যের তরফে আপত্তি তোলা হয়। সেই প্রসঙ্গে বিচারপতির মন্তব্য, “মন্দিরতলাও তো বাসস্ট্যান্ড। সেখানে হলে কোনও সমস্যা হবে না?” - এই প্রশ্ন তুলে তিনি কার্যত বিকল্প জায়গা নিয়ে রাজ্যের আপত্তির যুক্তিকেও খতিয়ে দেখেন।
সব মিলিয়ে, নবান্নের সামনে ধর্নার প্রশ্নে আদালত আপাতত কঠোর অবস্থান নিলেও বিকল্প জায়গায় কর্মসূচির পথ খোলা রাখল। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিজেপি কোন জায়গা বেছে নেয় এবং সেই প্রস্তাবে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।