যাদবপুরের কাটজুনগরের শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন দেব। সূত্রের খবর, তাঁর পরিবারের ৩ সদস্যকেও ডাকা হয়েছিল। এই শুনানি-পর্ব নিয়ে দেবের বক্তব্য, এটাই এখন নিউ-নর্মাল।

দেব
শেষ আপডেট: 14 January 2026 14:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (West Bengal SIR) প্রক্রিয়ার শুনানিতে বুধবার হাজিরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব (TMC MP Dev), অর্থাৎ দীপক অধিকারী। জানা গেছে, এনুমারেশন ফর্মে কিছু তথ্যগত ত্রুটি থাকার কারণেই তাঁকে ডাকা হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি শুনানির সময় জমা দেন দেব।
যাদবপুরের কাটজুনগরে অবস্থিত নির্দিষ্ট শুনানি কেন্দ্রে (SIR Hearing Centre) হাজির হন সাংসদ-অভিনেতা। সূত্রের খবর, দেবের পরিবারের আরও তিন সদস্যকেও এই শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের অসন্তোষের কথা জানান দেব।
এই প্রসঙ্গে দেব বলেন, “এটাই এখন নিউ-নর্মাল। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে যেটা করা দরকার, সেটাই করেছি।” তবে তাঁর বক্তব্যের সুর বদলে যায়, যখন তিনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তোলেন। দেবের অভিযোগ, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের যেভাবে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, তাতে তাঁরা অকারণে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং চরম অসুবিধার মুখে পড়ছেন। তাঁর মতে, এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।
এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নোটবন্দির (Demonitization) সময়কার অভিজ্ঞতার কথাও টানেন দেব। তিনি বলেন, নোটবন্দির সময়েও সকলকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল। সেই সময় দলের অবস্থানের বাইরে গিয়েও তিনি বিষয়টিকে সমর্থন করেছিলেন, কারণ তাঁর মনে হয়েছিল দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে ওই সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে নোটবন্দির তুলনা টেনে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় এ ভাবে সকলকে লাইনে দাঁড় করানো সমীচীন নয়।
দেবের কথায়, “এখন যেভাবে সবাইকে শুনানির জন্য টেনে লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে, সেটা ঠিক বলে মনে হয় না।” বিশেষ করে প্রবীণ ও গুরুতর অসুস্থ নাগরিকদের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। সাংসদ-অভিনেতার প্রস্তাব, প্রয়োজনে কমিশন বাড়িতে কর্মী পাঠিয়ে এই শ্রেণির ভোটারদের শুনানির কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এতে একদিকে যেমন প্রক্রিয়া বজায় থাকবে, তেমনই অকারণে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে পড়তে হবে না।
এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক চলছে, তখন একজন সাংসদ এবং জনপ্রিয় অভিনেতার এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দেবের বক্তব্যে একদিকে যেমন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার বার্তা রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে কমিশনের কাছে মানবিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তের আবেদনও স্পষ্ট।