শুভেন্দু অধিকারী এদিনের সভা থেকেই সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, 'নন্দীগ্রাম আন্দোলনে সবচেয়ে লাভবান কে হয়েছেন?'

নন্দীগ্রামে শুভেন্দু
শেষ আপডেট: 7 January 2026 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার নন্দীগ্রাম শহিদ তর্পণ দিবসের কর্মসূচি থেকেই রাজ্যের শাসক দল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে একের পর এক মন্তব্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। আন্দোলনের স্মৃতি উস্কে বেশ কিছু কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে এদিনের সভা থেকেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (2026 WB Election) নন্দীগ্রামে পরিবর্তনের ডাকও দিয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী এদিনের সভা থেকেই সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, 'নন্দীগ্রাম আন্দোলনে সবচেয়ে লাভবান কে হয়েছেন?' তাঁর দাবি, 'বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে।' যোগ করেন, 'তাঁকে যুব কংগ্রেসের নেত্রী করেছিলেন রাজীব গান্ধী। কিন্তু আসল সময়েই তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।'
শুভেন্দু কার্যত সুর চড়িয়ে বলেন, "এরা আমাকে গদ্দার বলে, কিন্তু পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় গদ্দারের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।" এর পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আন্দোলনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা কী ছিল, তাও মনে করিয়ে দেন বিরোধী দলনেতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠার নেপথ্যে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ভূমিকা মনে করিয়ে দিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, "আপনি যদি নিজে কিংবা দলের ক্ষমতায় মুখ্যমন্ত্রী হতেন তাহলে ২০০১ সালেই মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন, কিন্তু নন্দীগ্রামের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তাই আপনাকে ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে (১৯৯৮-২০১১)।" নন্দীগ্রামের বিধায়কের সাফ দাবি, 'নন্দীগ্রাম আন্দোলনের জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছেন।'
শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে নন্দীগ্রামেই প্রার্থী করেছিল নেতৃত্ব। এরপর ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী সভা থেকে ঘোষণা করে দেন, তিনি নন্দীগ্রামে দাঁড়াবেন। সেইমতোই ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে আসেন।
তবে ২ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও এই জয় নিয়ে বিতর্ক অনেক আছে। তৃণমূলের অভিযোগ, গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং করে জিতেছে বিজেপি। এনিয়ে হাইকোর্টে মামলাও দায়ের করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে বারবার তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু।
'১ লক্ষ ৮ হাজার ভোট পেয়েছেন কিন্তু হেরে গিয়ে গত পাঁচ বছরে একবারও নন্দীগ্রাম আসেননি। নন্দীগ্রামের খোঁজ নেননি।' একথা বলে সভামঞ্চে দাঁড়িয়েই প্রকৃত পরিবর্তনের ডাক দেন শুভেন্দু।
অন্যদিকে, শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, শহিদ পরিবারের অনেকেই এখনও মৃত্যুর শংসাপত্র পায়নি অনেকেই ক্ষতিপূরণের এক টাকাও পায়নি। তিনি বলেন, "ভুল হয়েছিল আমাদের। ২০২৬-এর সাধারণ মানুষকে পাশে নিয়ে পরিবর্তন আনব।"