তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি তিনি সিইও অফিসে গিয়ে দাবি করেছেন যে - আইপ্যাকের মাধ্যমে জাল বার্থ সার্টিফিকেট বানিয়ে তা বিলি করছে শাসক দল।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 6 November 2025 15:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে (West Bengal) চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিএলওদের (Booth Level Officer) উপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
কাঁকিনাড়ায় গঙ্গা আরতিতে যোগ দিতে গেছিলেন শুভেন্দু। সেখানে তিনি বলেন, “তৃণমূলের (TMC) চাপে কাজ করা মানে আইনের চোখে অপরাধ। অনেক বিএলও (BLO) বিহারে জেলে গেছেন। পশ্চিমবঙ্গে একই ভুল করলে পরিণতি ভালো হবে না।” এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু সতর্ক করে এও বলেন, “তৃণমূলের জেহাদিদের কথায় কেউ কাজ করবেন না। ভয় পেয়ে যদি তাঁদের রাজনৈতিক নির্দেশ মেনে চলেন, তাহলে বিহারের বিএলওদের মতো জেলে যেতে হবে।”
উল্লেখ্য, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এসআইআর (SIR) চলাকালীন একাধিক এলাকায় বিএলওদের মারধর ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। শাসক ও বিরোধী - দুই দলের টানাপড়েনের মাঝখানে কার্যত স্যান্ডউইচ হয়ে গেছেন তাঁরা। সম্প্রতি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে তারা বিজেপির বিএলএ ২-কে মারধর করেছেন। সব মিলিয়ে উত্তেজক পরিস্থিতি রাজ্যে।
যেদিন থেকে এসআইআর শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই অবশ্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি তিনি সিইও অফিসে গিয়ে দাবি করেছেন যে - আইপ্যাকের মাধ্যমে জাল বার্থ সার্টিফিকেট বানিয়ে তা বিলি করছে শাসক দল। অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে এবং নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক রক্ষায় এই কাজ করছে তারা।
বৃহস্পতিবার আবার কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি। সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করেছেন - ভোটার তালিকা থেকে সন্দেহভাজন নাম মুছে যাওয়ার আশঙ্কায় বেআইনি ভাবে বার্থ সার্টিফিকেট (Birth Certificate) বিলি করছে কলকাতা পুরসভা (KMC)।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, কলকাতা পুরসভা (KMC) অবৈধ উপায়ে ভোটার তালিকা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, “যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বা যাঁরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন, তাঁদেরই সুবিধা দিতেই পুরসভা হঠাৎ করে বিপুল হারে বার্থ সার্টিফিকেট দিচ্ছে।”
শুভেন্দু সতর্ক করে বলেছেন, ১৯৬৯ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের বিধি লঙ্ঘনের যে কোনও প্রচেষ্টা সহ্য করা হবে না। তিনি নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই ‘অবৈধ কাজ’-এর তদন্ত শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এইভাবে অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।