স্লোগান দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীরা বলেন, শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁরা ‘রেজিস্ট্রার্ড চোর’ বলেই মনে করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেননি। তাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি।

সিইও দফতরে বিক্ষোভের মুখে শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 24 February 2026 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বা সিইও দফতরে (West Bengal SIR) যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কিন্তু তাঁর প্রবেশের মুখেই দফতর চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। উপস্থিত ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’-র সদস্যদের একাংশ (BLO Protest) শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের তরফে তাঁর দিকে জুতোও ছোড়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা নিজেদের তৃণমূলপন্থী (Pro TMC BLOs) বলে পরিচয় দেন। তাঁদের দাবি, দিনের পর দিন তাঁরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে অবস্থান ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, দফতরের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী সহজেই ভিতরে প্রবেশ করতে পারায় ক্ষোভ আরও বাড়ে।
স্লোগান দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীরা বলেন, শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) তাঁরা ‘রেজিস্ট্রার্ড চোর’ বলেই মনে করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেননি। তাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি।
উত্তেজনার মধ্যে অবশ্য বাইরে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি শুভেন্দু। পরে দফতরে প্রবেশ করে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “মে মাসের পর সকলকে উল্টো ঝোলানো হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, এর আগেও বিএলওদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল বিরোধী দলনেতাকে। গত ডিসেম্বরেও তাঁকে ঘিরে স্লোগান তোলেন আন্দোলনকারীরা। সেই সময় শুভেন্দুও হাত তুলে পাল্টা ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
মঙ্গলবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বেড়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে টানটান পরিস্থিতি। তার মধ্যে প্রশাসনিক দফতর চত্বরে এই ধরনের উত্তেজনা নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল।
কদিন আগে রাজ্যের আরও এক বিএলও-র মৃত্যুর প্রতিবাদে সিইও দফতরের সামনে হাজির হন বিক্ষোভকারী বিএলও-রা। ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। তা নিয়ে গণ্ডগোলও হয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বাঁধে। এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিএলওদের এই সংগঠন। তাঁদের দাবি, অতিরিক্ত কাজের চাপে অনেক বিএলও অসুস্থ হয়েছেন। অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু কমিশন কোনও দায় নিচ্ছে না বলেই অভিযোগ।