এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। সেই প্রেক্ষিতেই পন্থের উপস্থিতি বৈধ বলে প্রশাসনের দাবি।

সুকান্ত মজুমদার এবং মনোজ পন্থ
শেষ আপডেট: 24 February 2026 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) ঠিক আগে রাজ্যের এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তাপের পারদ আরও চড়ল প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে (Manoj Pant) ঘিরে। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বৈঠকে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder) তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের ও গ্রেফতারির (Manoj Pant Arrest Demand) দাবি তুলেছেন। অভিযোগ, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই তিনি বৈঠকে ছিলেন।
সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, হাইকোর্টের বৈঠকে কারা উপস্থিত থাকতে পারবেন তা নিয়ে শীর্ষ আদালত (Supreme Court SIR) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ সত্ত্বেও মনোজ পন্থ কী ক্ষমতাবলে বৈঠকে যোগ দিলেন, তা তিনি জানতে চান। তাঁর দাবি, বর্তমানে পন্থ মুখ্যসচিব পদে নেই, ফলে ওই বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি বেআইনি। শীর্ষ আদালতের কাছে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
এর পাল্টা জবাব দিয়েছে নবান্ন (Nabanna)। নবান্নের দাবি, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির অনুমোদন নিয়েই মনোজ পন্থ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব হিসেবে দায়িত্বে আছেন এবং সেই পদমর্যাদার ভিত্তিতেই বৈঠকে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। সেই প্রেক্ষিতেই পন্থের উপস্থিতি বৈধ বলে প্রশাসনের দাবি।
এদিকে মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত এসআইআর প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে কাজ দ্রুত শেষ করতে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে বিচারক বা বিচারিক আধিকারিক আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ১০ মার্চ শুনানির নির্ধারিত দিন থাকলেও প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে শুনানি করে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যে অসঙ্গতি এবং ৩২ লক্ষ অনম্যাপড ভোটারের নাম মিলিয়ে বড়সড় জট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ অভিযোগ বিচারপতি কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। ফলে প্রশাসনিক চাপ যে বিপুল, তা স্পষ্ট।
এসআইআর ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এখন নজর, আদালতের নির্দেশ মেনে কত দ্রুত এই বিপুল অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় এবং বিতর্কে জড়ানো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলির কী পরিণতি দাঁড়ায়।