২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে জয় নিশ্চিত করতে বিজেপি যে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা স্পষ্ট। ১ মার্চ থেকেই জোরদার প্রচার শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 24 February 2026 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে (Central Agencies) রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে রাজ্য দখলের কৌশল নেয়। অতীতের একাধিক রাজ্যের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে সেই অভিযোগ বারবার সামনে আনা হয়েছে। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গেও (West Bengal Elections 2026) সেই বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দিয়েছে।
তবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই অভিযোগকে কার্যত গুরুত্বহীন বলেই মনে হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে (West Bengal Elections 2026) জয় নিশ্চিত করতে বিজেপি যে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা স্পষ্ট। ১ মার্চ থেকেই জোরদার প্রচার শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে গেরুয়া শিবির।
এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, আগের কয়েকটি নির্বাচনে ফলাফলের নিরিখে এই ইস্যুই বড় ভূমিকা নিয়েছে। যদিও সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানান, এসব নিয়ে তাঁদের আর বিশেষ মাথাব্যথা নেই।
নির্বাচন কমিশন (ECI) ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে, ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে তাদের নিষ্ক্রিয় রাখা হবে না। অতীতে বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা এ বার আর যাতে না হয়, সেদিকেই নজর দেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গে শমীকের মন্তব্য, প্রতি বছরই এ ধরনের কথা শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবে কী হয় তা সকলেই জানেন। তাঁর দাবি, বিজেপি আর কোনও বাহ্যিক ভরসার উপর নির্ভর করে ভোট লড়ছে না। তাঁর কথায় - এবারের ভোট আমরা নিজেদের কায়দায় লড়ব!
তিনি আরও বলেন, এসআইআর (West Bengal SIR) তালিকা প্রকাশ, বাহিনী মোতায়েন বা কত দফায় ভোট হবে - এসব নিয়ে তাঁদের চিন্তা নেই। বিজেপি নিজেদের কৌশলেই শান্তিপূর্ণভাবে মানুষের কাছে পৌঁছবে এবং ভোটের হার বাড়ানোর চেষ্টা করবে। তাঁর বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট হলেও, তার ভিত্তি কী - সংগঠনের শক্তি, নাকি অন্য কোনও সমীকরণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে।
সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, কেউ যদি বিজেপিকে ভোট না দিতে চান, তা তাঁদের সিদ্ধান্ত। তবে তাঁর দাবি, তাতেও রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসা আটকানো যাবে না। পাশাপাশি শাসক দলের ভূমিকা নিয়ে সংখ্যালঘু সমাজকে আত্মসমীক্ষার আহ্বানও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিজেপির আত্মবিশ্বাসী অবস্থান যেমন আলোচনায়, তেমনই তার অন্তর্নিহিত বার্তা নিয়েও জল্পনা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।