দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক যাত্রা বের হবে। শিলিগুড়ি, মালদহ, কলকাতা মহানগর, উত্তর ২৪ পরগনা, নবদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া-হুগলি, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং বর্ধমান - এই সব অঞ্চলকে ঘিরেই রুট ম্যাপ তৈরি হয়েছে।

শমীক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 17 February 2026 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Elections 2026) পাখির চোখ করে রাজ্যে সংগঠন জোরদারে বড় কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করল বিজেপি। ‘পরিবর্তন যাত্রা’ (BJP Paribartan Yatra) নামের এই উদ্যোগের মাধ্যমে গোটা বাংলাজুড়ে ব্যাপক প্রচার অভিযানে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার সকালে প্রস্তুতি বৈঠকে কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়। বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক যাত্রা (BJP Paribartan Yatra) বের হবে। শিলিগুড়ি, মালদহ, কলকাতা মহানগর, উত্তর ২৪ পরগনা, নবদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া-হুগলি, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং বর্ধমান - এই সব অঞ্চলকে ঘিরেই রুট ম্যাপ তৈরি হয়েছে। রাঢ়বঙ্গ, উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ অঞ্চল, কলকাতা এবং হাওড়া-হুগলি-মেদিনীপুর - এই পাঁচটি বৃহত্তর জোনে সমন্বিতভাবে প্রচার চালানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শমীক জানান, মোট ৯টি পৃথক যাত্রা আয়োজন করা হয়েছে। ১ ও ২ মার্চ থেকে শুরু হবে এই কর্মসূচি। প্রথম দিনে কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি থেকে যাত্রার সূচনা হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসান এবং আমতা থেকেও আরও চারটি যাত্রা বেরোবে। দোল (Holi Festival) উৎসবের কারণে ৩ ও ৪ মার্চ কোনও কর্মসূচি রাখা হয়নি। ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছে দল।
বিজেপির লক্ষ্য, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে এই যাত্রাকে নিয়ে যাওয়া। কর্মসূচির আওতায় থাকবে ৬০টি বড় জনসভা এবং আনুমানিক ৩০০টি ছোট সভা। বৃহত্তর কলকাতার ২৯টি বিধানসভা এলাকায় আলাদা করে ট্যাবলো বের করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সবশেষে মার্চ মাসেই কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সেই সভাকেই ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, নির্বাচনী ইস্তেহার তৈরির ক্ষেত্রেও জনমতকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করে স্থানীয় সমস্যা ও অগ্রাধিকারগুলিকে ইস্তেহারে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একাধিক স্তরে মতামত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও স্থানীয় নেতৃত্বের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
সাংবাদিক বৈঠক থেকেই শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে দাবি করেন, বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের সময় এসে গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২০১১ সালে মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় সরকার বদল করেছিল, কিন্তু গত ১৫ বছরে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাঁর কথায়, বাংলায় স্থায়ী পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শমীকের স্পষ্ট দাবি, বাংলা থেকে তৃণমূল সরকার চলে গেছে, যেটা রয়েছে সেটা জীবন্ত জীবাশ্ম। পৃথিবীর কোনও শক্তি নেই তৃণমূল কংগ্রেসকে আর সরকারে ফেরাতে পারবে।
২০২৬-এর লড়াইকে সামনে রেখে বিজেপির এই দীর্ঘমেয়াদি রণকৌশল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।