বাংলায় একটি প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে, তুমি ডালে ডালে তো আমি পাতায় পাতায়। মঙ্গলবার দুপুরে এই সার কথাটাই মনোজ আগরওয়াল (CEO West Bengal), সুব্রত গুপ্তদের উদ্দেশে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক এই প্রবাদ উদ্ধৃত করেননি তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 17 February 2026 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় একটি প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে, তুমি ডালে ডালে তো আমি পাতায় পাতায়। মঙ্গলবার দুপুরে এই সার কথাটাই মনোজ আগরওয়াল (CEO West Bengal), সুব্রত গুপ্তদের উদ্দেশে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক এই প্রবাদ উদ্ধৃত করেননি তিনি। সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, ওদের কেউ কেউ ৪২০ হলে আমি ৪৪০ ভোল্ট।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, কমিশন (Election Commission) যতই যাই করুক, তাঁকে ছুঁতে পারবে না। পার্থক্য থাকবেই। ভোল্টও আসলে হল, বিভব পার্থক্য। কোনও পরিবাহীর মধ্য দিয়ে ১ অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে যদি ১ ওয়াট শক্তি খরচ হয়, তবে সেই দুই বিন্দুর বিভব পার্থক্যকে ১ ভোল্ট বলে। ইতালীয় বিজ্ঞানী আলেসান্দ্রো ভোল্টা-র নামানুসারে এই এককের নামকরণ করা হয়েছিল। মমতা সেই ব্যাখ্যা করতে চাননি। বোঝাতে চেয়েছেন তিনি ও তাঁর ভাবনা এবং কৌশল মনোজ-সুব্রতদের চেয়ে বিশ কদম এগিয়ে।
ওদের কেউ কেউ ৪২০ বলার মধ্যেও অবধারিতভাবে একটা খোঁচা রয়েছে। ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে ৪২০ ধারায় শাস্তি দেওয়া হয় প্রতারণার জন্য।
মঙ্গলবার সকালে দ্য ওয়ালই (The Wall) প্রথমে লিখেছিল যে ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হওয়ার পর অন্তত ১ লক্ষ ভোটারের নথি নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার সিস্টেমে আপলোড করা যায়নি। তার পরই এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Mamata Banerjee)।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশে সুন্দরভাবে নির্বাচন হয়েছে। আর এখানে গণতন্ত্র ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে?” তাঁর অভিযোগ, কমিশনের এক আধিকারিক টি-বোর্ডে বসে পরিকল্পনা করছেন কীভাবে বাংলায় ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া যায়। নাম উল্লেখ করে তিনি সুব্রত গুপ্ত-র দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। পাশাপাশি মনোজ আগরওয়াল-দের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দেন।
সিঙ্গুরে জোর করে জমি নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতের ‘হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি’ তাঁর জানা আছে। তিনি বলেন, “অনেক কীর্তি-কেলেঙ্কারির নায়ক-নায়িকারা মনে রাখবেন, প্রতিশোধ জনগণের উপর নেবেন না। আমার উপর নিন”। শেষে ফের সেই চ্যালেঞ্জ— “আপনারা যদি কেউ কেউ ৪২০ হন, আমি ৪৪০ ভোল্ট।”
বস্তুত, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে রাজ্যের সাত আধিকারিক সাসপেন্ড হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানিয়ে দেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা চাকরি হারাচ্ছেন না। তবে নির্বাচনী দায়িত্বে তাঁদের আর রাখা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ওই সাত জনকে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ না দিয়েই পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্ত একতরফা। রাজ্য সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। এমনকি প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে পদোন্নতির বিষয়ও বিবেচনা করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন।
সাংবাদিক বৈঠকের শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। এর পরেই সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, তাঁরা প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাবেন, জেলায় অন্যান্য দায়িত্ব সামলাবেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “তাঁরা কাজ করবেন, কিন্তু নির্বাচনের কাজ করবেন না। চাকরিচ্যুত হচ্ছেন না।”