আগামী শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ। তার আগে মঙ্গলবার বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই নিয়ে মুখ খুললেন বিধানসভা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 24 February 2026 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়ায় (West Bengal SIR) এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ অভিযোগের নিষ্পত্তি (60 Lakh SIR Complaints Pending Before High Court-Appointed Panel) বাকি রয়েছে। আগামী শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List) প্রকাশ। তার আগে মঙ্গলবার বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court SIR)। সেই নিয়ে মুখ খুললেন বিধানসভা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Bandopadhayay) এবং রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandev Chattopadhayay)।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের SIR-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ওড়িশা (Odisha) ও ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) থেকে বিচারক নিয়োগ করা যাবে (Supreme Court SIR hearing)। বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ইতিমধ্যে এই নির্দেশের পর কমিশনকে তুলোধন করেছে। আর বিমান এবং শোভনদেব সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে যুক্তিযুক্তি বলেই মনে করছেন।
শোভনদেবের বক্তব্য, ভিনরাজ্য থেকে জুডিশিয়াল অফিসার আনার যে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে তার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর কথায়, ''নির্দিষ্ট সময়ে প্রক্রিয়া শেষ করতে হলে এই সিদ্ধান্তের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ যোগ্য ভোটারদের নাম থাকতেই হবে। আর এর জন্য অন্য রাজ্য থেকে বিচারক আনায় কোনও ভুল নেই।''
একই সুর বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। তিনি বলেন, ''সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মান্যতা দেওয়া উচিত। যে অভিযোগগুলির নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে তা সময়ের মধ্যে পূরণ করতে হলে এমনটা করতে হবে। যাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ না যায়।'' চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের যে নির্দেশ তাতে আনন্দিত বিমান। স্পষ্ট কথা, শীর্ষ আদালত যে ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশের কথা ভেবেছে, এটাই শ্রেয়।
অন্যদিকে এই ইস্যুটি নিয়ে তৃণমূলের কংগ্রেসের অভিযোগ - নির্বাচন কমিশন (ECI) এসআইআর প্রক্রিয়ায় কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং তার জন্য জটিলতা আরও বেড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে তাঁদের পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা এবং ব্যর্থতার ফলে সৃষ্ট বিশাল বাধা মোকাবিলায় প্রতিবেশী রাজ্য থেকে বিচারকদের মোতায়েনের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এই হস্তক্ষেপ নিজেই অনেক কিছু বলে।
প্রসঙ্গত, কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যগত অসঙ্গতি (Logical Discrepency) এবং ৩২ লক্ষ ‘অ্যানম্যাপড’ (Unmapped Voters) নাম মিলিয়ে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে নিয়ে জট তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই প্রায় ৬০ লক্ষ নাম সংক্রান্ত অভিযোগ বিচারপতি কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। ফলে কাজের চাপ যে বিপুল, তা স্পষ্ট।
তাই বাংলায় এসআইআর-এর (SIR in Bengal) কাজ শেষ করার জন্য ভিন রাজ্য যেমন ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকেও বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসার আনার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি।