কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তরফে রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এই কাজের জন্য পর্যাপ্ত লোকের অভাব রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 24 February 2026 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতে রয়েছে মাত্র চার দিন, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ অভিযোগের নিষ্পত্তি (60 Lakh SIR Complaints Pending Before High Court-Appointed Panel) বাকি রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেখে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant) জানালেন, অন্য রাজ্য থেকে বিচারক এনে কাজে গতি আনতে হবে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের SIR-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ওড়িশা (Odisha) ও ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) থেকে বিচারক নিয়োগ করা যাবে (Supreme Court SIR hearing)।
আগামী ১০ মার্চ এসআইআর মামলার শুনানি (Supreme Court SIR hearing) হওয়ার কথা থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জরুরি ভিত্তিতে মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি করে।
কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির তরফে রিপোর্ট ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এই কাজের জন্য পর্যাপ্ত লোকের অভাব রয়েছে। প্রতি দিন ২৫০টি করে নিষ্পত্তি করলেও, প্রায় ৮০ দিন সময় লাগবে। কিন্তু এত সময় হাতে নেই। কারণ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যগত অসঙ্গতি (Logical Discrepency) এবং ৩২ লক্ষ ‘অ্যানম্যাপড’ (Unmapped Voters) নাম মিলিয়ে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে নিয়ে জট তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই প্রায় ৬০ লক্ষ নাম সংক্রান্ত অভিযোগ বিচারপতি কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। ফলে কাজের চাপ যে বিপুল, তা স্পষ্ট।
তাই বাংলায় এসআইআর-এর (SIR in Bengal) কাজ শেষ করার জন্য ভিন রাজ্য যেমন ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকেও বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসার আনার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি।
সুপ্রিম কোর্টের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) জানান, অন্য রাজ্য থেকে বিচারক এলে তাঁরা বাংলা ভাষা বুঝতে অসুবিধায় পড়বেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাস অনুযায়ী এক সময় এই রাজ্যগুলি একই প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে স্থানীয় ভাষা ও উপভাষায় অনেকটাই মিল রয়েছে, তাই জুডিশিয়াল অফিসারদের বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
বাংলায় এসআইআর পর্বে (SIR in Bengal) নথি যাচাইয়ের কাজের গতি বাড়াতে তিন বা তার বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা আছে এমন সিভিল জজ পদমর্যাদার অফিসারদেরও নিয়োগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি, এসআইআরের কাজের জন্য বাংলা থেকে কোনও আবেদন এলে তা মানবিকতার সঙ্গে বিবেচনা করে দেখার কথা ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের হাইকোর্টের বিচারপতিদের উদ্দেশে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
অন্যদিকে, কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান যে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেও সেই তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে, ফলে কমিশনের হাতে কিছু অতিরিক্ত সময় থাকে।
এই বক্তব্যের পর বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন যে, পরে প্রকাশিত সব অতিরিক্ত তালিকাকেই ২৮ তারিখের তালিকা হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি আরও বলেন, "ব্যক্তির অধিকার রক্ষা এবং কমিশনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।"