শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই ঘটনা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনা প্রসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 5 April 2026 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভবানীপুরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে এই বিতর্ক। শুভেন্দুর দাবি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোটারদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে (West Bengal Assembly Election 2026)।
এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি যখন শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি-বাড়ি প্রচার চালাচ্ছিলেন, সেই সময় সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অভিযোগ, ওই পুলিশকর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করা ভোটারদের পরিচয় ও ঠিকানা লিখে নিচ্ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্যই এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
Democracy Under Attack in Bhabanipur
I have sent a strong complaint to the Hon'ble Chief Election Commissioner against the Trinamool Congress for brazenly misusing Kolkata Police as their personal surveillance squad.
While I was peacefully conducting door-to-door campaigning in… pic.twitter.com/DXo3rE2s6K— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) April 5, 2026
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই ঘটনা আসলে “রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্বাচকদের ভয় দেখানো” এবং এই ঘটনা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা। একই পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনা প্রসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন।
এই অভিযোগ সামনে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, রাজ্যে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না এবং শাসকদলের স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে ভবানীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মনোনয়ন ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
বুধবার দুপুরে হাজরা মোড় থেকে শুভেন্দুর সমর্থনে শাহের রোড শো শুরু হয়। মিছিলটি যখন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির খুব কাছ দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই শুরু হয় ধুন্ধুমার। তৃণমূলের একদল কর্মী-সমর্থক মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি ও বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছিল।
সূত্রের খবর, খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দাকে নজিরবিহীন ভাষায় ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন, “আইপিএস হয়েও কলকাতা সামলাতে পারছেন না? আপনাকে কি নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে?” কমিশনের এই কড়া মনোভাবের পরেই বুধবার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই দুঁদে আধিকারিক ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে শো-কজ করেছে লালবাজার।
সেই ঘটনায় সরাসরি বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, মনোনয়ন দেওয়ার নামে বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে এলাকায় অশান্তি পাকিয়েছে গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ওই রোড শো-কে কেন্দ্র করে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলেই দেগে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।