কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ওই রোড শো-কে কেন্দ্র করে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলেই দেগে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 5 April 2026 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভবানীপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মনোনয়ন ঘিরে রণক্ষেত্রের ঘটনায় এবার সরাসরি বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, মনোনয়ন দেওয়ার নামে বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে এলাকায় অশান্তি পাকিয়েছে গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ওই রোড শো-কে কেন্দ্র করে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলেই দেগে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
জিয়াগঞ্জের সভা থেকে ভবানীপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘‘ভবানীপুরে আমার বাড়ির সামনে হামলা হল। ওরা আমার পোস্টারে থুতু দিচ্ছিল। পাড়ার মা কালীর মন্দিরের সামনে জুতো দেখাচ্ছিল। এমনকি অভিষেকের বাড়ির দিকেও জুতো দেখানো হয়েছে।’’ তৃণমূল নেত্রীর দাবি, এই অভব্য আচরণের প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয়রাই। তাঁর সাফ কথা, ‘‘এটা রাজনীতি নয়। মনোনয়ন দিতে ওরা বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসেছিল।’’
এদিকে, ভবানীপুরের ওই ঘটনায় খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভর্ৎসনার মুখে পড়ার পর এবার প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় পদক্ষেপ করেছে কমিশন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন ভবন। একই সঙ্গে ওই চার জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে শোকজ করা হয়েছিল।
অশান্তিতে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে লালবাজার। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৩৫ থেকে ৪০ জনকে চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত শুভেন্দুর রোড শো চলাকালীন হরিশ মুখার্জি রোডে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি বাধে। তৃণমূল কর্মীরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় এমন নজিরবিহীন গোলমালের ঘটনায় কমিশন যে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে, চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তেই তা স্পষ্ট। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘বহিরাগতদের তাণ্ডব’ হিসেবে তুলে ধরে নির্বাচনী ময়দানে স্থানীয় আবেগকে উস্কে দেওয়ার কৌশলী চাল দিলেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।