২০১৪ সালে মোদি এসেছে ক্ষমতায়। সেই বছর অভিষেক সাংসদ হয়েছে। দু'জনের ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড আনব।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 5 April 2026 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আপনারা পরিবার আমার, আপনারা খালি আদেশ করবেন। আমি আছি তো।' দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়ার সভা থেকে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) গলায় শোনা গেল চ্যালেঞ্জের সুর। সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, "দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভোট প্রতিবারের মতই এবারও শেষ দফায় হচ্ছে। ভোট যত দফাতেই করুক, এদের রফা-দফা দক্ষিণ ২৪ পরগনাই করে। এবারও করবে।" বিজেপি প্রার্থীকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, "বিজেপি (BJP) প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়েছিল বিষ্ণুপুরে, এবার দাঁড়িয়েছে সাতগাছিয়ায়। সাধারণত এক ছাত্র দু'বার ফেল করলে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেয়। এই প্রার্থী ২০২১ সালে একবার ফেল করেছে (West Bengal Assembly Election 2026)। আবার ২০২৬ সালে ফেল করে মাঠছাড়া হবে।"
বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, "সাতগাছিয়াতে আমি রিপোর্ট কার্ড আনতে বলব না। ২০১৪ সালে মোদি এসেছে ক্ষমতায়। সেই বছর অভিষেক সাংসদ হয়েছে। দু'জনের ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড আনব। ডবন ইঞ্জিন বনাম সিঙ্গেল ইঞ্জিনের সরকারের হিসেব আনব। মাঠ ছাড়া করব।" দলের কর্মীদের বার্তা দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এবারের চ্যালেঞ্জ সব গ্রাম পঞ্চায়েতে জিততে হবে। অনেককে ফোন করে অনেক কিছু বলা হবে। বিজেপির এখানে কোনও কাজ করার লোক নেই। টাকা দিতে চাইলে সবাই টাকা নিয়ে নিন। এটা বাংলার টাকা যেটা মোদী আটকে রেখেছে। যেভাবে ২০২৪ সালে হয়েছে, সেইভাবে এবারও পদ্ম ফুল থেকে টাকা নেবেন আর জোড়াফুলকে ভোট দেবেন।"
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচারের কথা তুলে ধরে অভিষেক বলেন, "বিজেপি বলেছে বাংলা বলে কোনও ভাষা নেই। বাংলা ভাষায় কথা বললে অত্যাচার করেছে। তাদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে।" ডায়মন্ড হারবারে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূল সাংসদ বলেন, "মানুষের টাকা আটকাতে পারেনি। ডায়মন্ড হারবারে (Diamond Harbour) সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার কাজ আমরা করেছি গত পাঁচ বছরে। আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকান ফের বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
রাজ্যজুড়ে বিজেপির বিধায়কদের আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, "এরা যে বিধানসভা জিতেছে সেখানেও দশ পয়সার বারতি কাজ দিল্লি থেকে নিয়ে আসেনি।" তিনি বলেন, "ডায়মন্ড হারবার দিল্লির কাছে বশ্যতা স্বীকার করেনি। আমাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল মাঠে-কোর্টে-পার্লামেন্টে সব জায়গায় লড়ছে। একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা মুখ্যমন্ত্রী যিনি আদালতে সওয়াল করেছেন।"
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ে জানিয়েছেন, "এই দক্ষিণ ২৪ পরগণায় যারা আবাসের আবেদন করেছেন, তার মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ হয়েছে বাকি ১০ শতাংশ কাজ দ্রুত হয়ে যাবে।" ১৮টি অঞ্চলের সবগুলিতে জেতার আহ্বান জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, "এখানে তো ব্যবধান বাড়ানোর লড়াই। এখানে বিধানসভাগুলি নিজেরা লড়ছে উন্নয়ন আর ব্যবধানে কে এক নম্বর হবে সেই নিয়ে।" এসআইআর নিয়ে মানুষকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের জেদ যতই এফআইআর আর এসআইআর হোক, ৬০ হাজারের ব্যবধান এবার ৭০ হাজার হবে। এরা আপনাদের ভয় পায়। কোনও ভোট বাদ পরবে না। সবার নাম ওঠানোর দায়িত্ব আমাদের। সব জায়গায় ক্যাম্প হয়েছে। বিজেপি চায় আপনারা চিন্তিত থাকুন।" দলের কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, প্রচার এবং ভোটের কাজ যেমন চলছে তা চলবে। কিন্তু নজর রাখতে হবে যাতে কারোর নাম যেন বাদ না যায়। এই কাজ দলের কাছে অত্যনত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করিয়ে দেন তিনি।