অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বহিরাগতদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং তা প্রশাসনিক মদতেই হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতির অবসান ঘটানো হবে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 5 April 2026 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের মাটি থেকেই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রচার অভিযান শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে আয়োজিত বিজেপির ‘বিজয় সংকল্প সভা’র (Cooch Behar BJP Rally) মঞ্চ থেকে তিনি রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। শুরুতেই বাংলায় বক্তব্য রেখে উপস্থিত জনতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন মোদী। এরপরই মূল সুরে আঘাত। তাঁর দাবি, এই মুহূর্তে রাজ্যের শাসক দলই ভয়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে তাঁর পূর্ববর্তী সভার পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ''ব্রিগেডে সভা করেছিলাম। তখন থেকেই তৃণমূলের গোটা সিন্ডিকেট ভয়ে রয়েছে। কোচবিহারের সভায় এসেও বুঝতে পারছি মানুষ কী চাইছে।'' সভায় উপস্থিত মানুষের সাড়া দেখে তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, রাজ্যের মানুষ এখন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছে এবং সেই কারণেই আগামী দিনে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলায় সরকার গড়ার পর হিসেব হবে - এমনও মন্তব্য করতে শোনা যায় নরেন্দ্র মোদীকে। তাঁর সংযোজন, ''বাংলায় এসেই বুঝে গেছি তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গেছে। মানুষ এখন শুধুই পরিবর্তন চাইছে। আর তারপর তৃণমূলের সব পাপের হিসেব করা হবে। বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে।''
একই সঙ্গে তিনি অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বহিরাগতদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং তা প্রশাসনিক মদতেই হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতির অবসান ঘটানো হবে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ - এই দুই বিষয়কেই তিনি নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে রাখতে চাইছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশে বসবাস করছে। তবে নির্বাচনের পর সেই পরিস্থিতি আর থাকবে না বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, আগামী দিনে রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে নিজের জীবনযাপন করতে পারবে। ভয়ের বদলে মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে।
সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিলেন - এই নির্বাচনে তাঁর দলের মূল লক্ষ্যই হল রাজ্যের পরিবর্তন। ভয় নয়, ভরসা ফিরিয়ে আনা।