অভিষেকের অভিযোগ, "বিজেপি একেরপর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" কৃষিপ্রধান রায়না বিধানসভা এলাকায়, ক্ষেতমজুরদের সরাসরি সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 5 April 2026 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রায়নায় নির্বাচনী জনসভা থেকে সরাসরি বিরোধীদের আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, "এখন সিপিএম-এর সন্ত্রাস অতীত। ২০০৯ সালে মাধকডিহিতে সন্ত্রাস চালিয়েছিল। সেখানকার মা-বোনেরা সিপিআইএমকে তাড়িয়েছে।" তিনি মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "তৃতীয়বার যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হয়েছিল তখন আপনারা ১৬-০ করেছিলেন। আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।" পাশপাশি দলের অন্দরে কর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। অভিষেকের হুঁশিয়ারি, "দল সবার উপর নজর রাখে। কয়েকটা জায়গায়, রাতের অন্ধকারে বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। ৪ তারিখ দেখা হবে। পঞ্চাশ হাজারের বেশি ভোটে জেতাতে হবে তৃণমূলকে।"
রায়নায় তৃণমূল প্রার্থীর উপরে আস্থা প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "মন্দিরা দলুই মাটির মেয়ে। তিনি দু'বার নির্বাচিত জেলা পরিষদ মেম্বার। জনসেবার ক্ষেত্রে তিনি প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবেন। জনকল্যাণমূলক কাজ মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছেন।"
বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, "প্রার্থীকে কেউ চেনে না। তিনি এমন দলের প্রতিনিধি যে দল বাংলার জনবিরোধী।" অভিষেকের অভিযোগ, "বিজেপি একেরপর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" কৃষিপ্রধান রায়না বিধানসভা এলাকায়, ক্ষেতমজুরদের সরাসরি সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি। পাশপাশি, তিন বিপ্লবির জন্মভিটে সংরক্ষনের কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই অঞ্চলে কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি মনে করিয়ে দেন, এই রায়না বিধানসভায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা হয়েছে গোতান থেকে কামারহাটি পর্যন্ত। পাশপাশি, এই অঞ্চলে মহাবিদ্যালয় হয়েছে, কিষাণমান্ডি হয়েছে।" তিনি জানিয়ে দেন, হাইস্কুলগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। কমিউনিটি হল এবং পানিয় জলের কর্মসূচী করা হয়েছে বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি। বিজেপি প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক বলেন, "মোদী সরকারের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন। লড়াই করতে চাইলে ধর্মের ভিত্তিতে নয়, কর্মের ভিত্তিতে করতে হবে।"
বিজেপির নীতিকে আক্রমণ করে তাঁর অভিযোগ, "এখানে অনেক কৃষক ভাইয়েরা রয়েছে। এই বিধানসভা কৃষি প্রধান এলাকা। গোবিন্দভোগ চালের রপ্তানি বন্ধ করেছে কেন্দ্র। কেরল ছাড়া আর কোথাও বাজার নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ডিমান্ড ছিল। কিন্তু সেখানে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।"
২০১৪ সালের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কত ছিল এবং এখন তা কত হয়েছে সেই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "মোদী সরকার জিনিসের দাম বাড়িয়ে আপনার পকেট থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষীর ভাণ্ডার করে আপনাকে টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছে। কার সঙ্গে থাকবেন সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"
জয়ের বিষয়ে আশাবাদী অভিষেক জনসভা থেকে জানিয়েছেন, "আমি ১৫টার বেশি জেলায় সভা করেছি। প্রথম দফায় যেখানে ভোট হবে সব জায়গায় বিজেপির হাত পা ভাঙবে। পরের দফায় আমরা মেরুদন্ড ভাঙব বিজেপির। বলো হরি হরি বোল, বহিরাগতদের খাটে তোল হবে।"