শনিবারই পূর্ব মেদিনীপুরের প্রশাসনিক ও পুলিশি শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেছিলেন মনোজ আগরওয়াল(CEO Manoj Agarwal)। তার পরেই রবিবার সাতসকালে পৌঁছে যান নন্দীগ্রামে।
.jpeg.webp)
নন্দীগ্রামে সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 5 April 2026 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরে বসে ফাইলবন্দি রিপোর্ট নয়, বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে গ্রাউন্ড জিরোর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে খোদ ‘হাই-ভোল্টেজ’ নন্দীগ্রামের (Nandigram) বুথে পৌঁছে গেলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের এই স্পর্শকাতর জনপদে সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গিয়ে সিইও জানতে চাইলেন, “ভোটের দিন বা পরে আপনাদের কি কেউ ভয় দেখায়?” নির্বাচনের মুখে কমিশনের এই ‘সক্রিয়’ মেজাজ রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শনিবারই পূর্ব মেদিনীপুরের প্রশাসনিক ও পুলিশি শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেছিলেন মনোজ আগরওয়াল(CEO Manoj Agarwal)। তার পরেই রবিবার সাতসকালে পৌঁছে যান নন্দীগ্রামে। সেখানকার একাধিক স্পর্শকাতর বুথ ঘুরে দেখার পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। কালিয়াচকের ঘটনায় বিচারকদের আটকে রাখার নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার পর যখন রাজ্য-রাজনীতি তপ্ত, তখন সিইও-র এই সফর আদতে ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফেরানোরই একটি কৌশল। এদিন তিনি স্পষ্ট জানান, “মানুষের মনে যেন কোনও ভয়-ভীতি না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে। যেখানে যেখানে গন্ডগোল হয়েছিল বা হওয়ার আশঙ্কা আছে, আমি নিজে সেখানে যাব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলব।”
ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে যে ডামাডোল চলছে, সেই বিষয়েও এদিন গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন সিইও। তিনি জানান, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রায় ৬০ লক্ষ বিচারাধীন বিষয়ের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫৫ লক্ষেরও বেশির নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। ১১টি সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের কাজ পুরোদমে শুরু হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থীর নির্বাচনে লড়া নিয়ে যে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, রবিবার তাতে ইতি টেনেছে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল। আবেদনকারী ও তাঁর বাবার নামে তথ্যের অসংগতি থাকলেও, প্রার্থীর নিজের নামে কোনও আইনি বাধা নেই বলেই জানিয়েছে আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার রাত ৮টার মধ্যেই অতিরিক্ত তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ফলে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে বড়সড় স্বস্তি পেয়েছেন ওই কংগ্রেস নেতা।
সন্ত্রাসমুক্ত ও অবাধ নির্বাচনের যে লক্ষ্য কমিশন স্থির করেছে, সিইও-র এই মেঠো সফর সেই লক্ষ্যপূরণে কতটা সহায়ক হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে খোদ নির্বাচনী আধিকারিককে গ্রামের অলিগলি বা বুথে বুথে ঘুরতে দেখে নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের মনে যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে, তা বলাই যায়।