শুভেন্দু আধিকারীর দাবি, নন্দীগ্রামের পাশপাশি এবার ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রীকে হারাবেন তিনি। তাঁর আহ্বান, “পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ হতে দেওয়া যাবে না।”

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 30 March 2026 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহের প্রথম দিনেই হলদিয়ায় ‘বিজয় সঙ্কল্প সভা’ থেকে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু আধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামের পাশপাশি এবার ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রীকে হারাবেন তিনি (West Benagl Assembly Election 2026)। তাঁর আহ্বান, “বাংলাকে জামাতের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ হতে দেওয়া যাবে না।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) বলেন, আসন্ন নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে কোনও ইস্যু নেই। সেই কারণেই খাবার নিয়ে রাজনীতি করছেন তিনি।
সোমবার হলদিয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দেবার আগে, সভা থেকে তৃণমূলকে হারানোর ডাক দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, লড়াইয়ের ময়দানে দেখা হবে। তিনি বলেন, “হলদিয়া সাবডিভিশনে গতবার ২-১ ফল হয়েছিল। আজ আমরা সবাইকে কথা দিচ্ছি এবার ৩-০ করব।” তার দাবি, “সব বুথে ৫০০ ভোটের লিড থাকবে।”
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ হতে দেওয়া যাবে না। জামাতিদের হাতে যেতে দেব না। মানুষ জেগেছে। বাংলাকে বাঁচাতে হবে।” ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলকে বিসর্জন দেওয়ার ডাক দিয়ে শুভেন্দু বলেন, মে মাসের চার তারিখে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার হবে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর দাবি, “নন্দীগ্রামের মত মমতা ব্যানার্জি ভবানীপুরেও হারছেন।”
এই সভা থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “বাংলাকে জামাতের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। সেটার জন্য শুভেন্দুর হাত শক্ত করতে হবে। এবার মমতাদির কাছে কোনও ইস্যু নেই।” ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবি, তৃণমূলের কাছে বলার মত কিছু নেই। তাঁরা কোনও কাজ করেনি। সেই কারণেই খাবার নিয়ে রাজনীতি করছেন তিনি। প্রধান বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েয় দাবি বিজেপি জিতলে মাছ-ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেবে। তিনি মনে করিয়ে দেন রবিবার তিনি নন্দীগ্রামে ছিলেন। বিজেপি নেতা হয়েও সেখানে তিনি মাছ খেয়েছেন এবং তিনি মাছ ও ডিম দুটিই খান। তাঁর অভিযোগ, তিনি মানুষের জন্য কোনও কাজ করেননি। হেরে যাওয়ার ভয়েই বিজেপি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যা কথা বলছেন।
এখানেই না থেমে, চাকরি এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রধানের দাবি, বাংলায় চাকরি চাই, মহিলাদের সুরক্ষা চাই। তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর অভিযোগ, “বাংলাকে বাঙালিদের হাতে রাখতে হবে, অনুপ্রবেশকারীদের হাতে নয়। মমতা চান বাংলার শাসন অনুপ্রবেশকারীদের হাতে যাক”। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি তিনি। পারিবারিক রাজনীতির দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, “মমতা শুধু ভাইপোর জন্য চাকরি খুঁজেছেন। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সকল মানুষের জন্য চাকরি খুঁজবেন।”