হিসাব মতো শুধু কলকাতাতেই ৩১টি থানায় ওসি ও আইসি-কে সরিয়ে নতুন পুলিশ অফিসার বসাচ্ছে কমিশন। তার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কেন্দ্র ভবানীপুরও রয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 29 March 2026 20:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assemble Election 2026) আগে পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বড় পুলিশ রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। নবান্ন ছাড়া সাম্প্রতিক কালে রাজ্য পুলিশে এত বড় বদল আগে কখনও নির্বাচন কমিশন করেনি। হিসাব মতো শুধু কলকাতাতেই ৩১টি থানায় ওসি ও আইসি-কে সরিয়ে নতুন পুলিশ অফিসার বসাচ্ছে কমিশন। তার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কেন্দ্র ভবানীপুরও রয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যে বাকি থানাগুলির মধ্যে এদিন ১৪২টি-তে ওসি ও আইসি বদল করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচন কেন্দ্র ভবানীপুর এবং কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর নির্বাচন কেন্দ্র বহরমপুর।
নির্বাচন কমিশনের তরফে মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্য যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। তার পর কমিশন এই ট্রান্সফার ও পোস্টিংয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। অবিলম্বে নতুন অফিসারদের চার্জ নিতে হবে।
ভবানীপুর থানায় আইসি করে পাঠানো হয়েছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অফিসার সৌমিত্র বসুকে। নন্দীগ্রামে আইসি করা হয়েছে শুভব্রত নাথ। তিনি ছিলেন চন্দননগর থানায়। ওই চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট থেকেই তুলে এনে বহরমপুর থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্সপেক্টর শুভাশিস ঘোষকে।
এই বদলির তালিকায় রয়েছে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—প্রায় গোটা রাজ্য। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর, বীরভূম, বাঁকুড়া—সব গুরুত্বপূর্ণ জেলাতেই একাধিক থানার ইনচার্জ ও ওসি বদল হয়েছেন।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একই জেলায় দীর্ঘদিন থাকা অফিসারদের অন্য জেলায় সরানো হয়েছে। আবার সাইবার ক্রাইম, ট্রাফিক বা বিশেষ শাখা থেকে সরাসরি থানার দায়িত্বে আনা হয়েছে বহু অফিসারকে।
এই রদবদলের প্রভাব পড়েছে কলকাতা পুলিশেও। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শাখা ও ইউনিটে কর্মরত অফিসারদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ভোটের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সাধারণত ভোটের আগে রদবদল করে থাকে, যাতে প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকে এবং কোনওভাবেই ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব না পড়ে। দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকা অফিসারদের সরিয়ে দেওয়া এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে একসঙ্গে এত বড় রদবদল আগে কখনও দেখা যায়নি।
প্রশাসনিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করতেই এই বড় পদক্ষেপ।