বাসন্তী থানার আইসি-কে সাসপেন্ড করার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্য জুড়ে ৮৩ জন বিডিও (BDO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার (ARO) বদলিতে সিলমোহর দিল দিল্লি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 29 March 2026 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে আবার প্রশাসনিক স্তরে রদবদল করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। বাসন্তী থানার আইসি-কে সাসপেন্ড করার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্য জুড়ে ৮৩ জন বিডিও (BDO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার (ARO) বদলিতে সিলমোহর দিল কমিশন। রবিবার নবান্নকে পাঠানো কমিশনের একটি চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, গত ২৮ মার্চ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) একগুচ্ছ বিডিও ও এআরও-র বদলির প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখার পর ৮৩ জন আধিকারিককে সরানোর ছাড়পত্র দিয়েছে কমিশন। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো একাধিক জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্লকে এই রদবদল কার্যকর করা হয়েছে। কমিশনের তালিকায় ৮৪ জন আধিকারিকের নাম থাকলেও, একজন আধিকারিক বাদে বাকি সকলের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মোট ১৪ জন এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার যথাক্রমে ৭ ও ১১ জনকে বদলি করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের দুই এআরও-কেও বদলি করেছে কমিশন।

এর আগে, গত ২৬ মার্চ বাসন্তী বাজার এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল কমিশন। অভিযোগ ছিল, আগাম খবর থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেননি বাসন্তী থানার আইসি অভিজিৎ পাল। এমনকি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) থাকা সত্ত্বেও তাদের ব্যবহার করা হয়নি। কর্তব্যে এই গুরুতর গাফিলতির দায়ে অভিজিৎ পালকে গত ২৭ মার্চ সাসপেন্ড করা হয় এবং তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রবীর ঘোষকে।
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আধিকারিক স্তরে এই ব্যাপক রদবদল নতুন নয়। ভোটের কাজে যুক্ত সরকারি কর্মীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই কমিশন এই পদক্ষেপ করে। কোচবিহারের দিনহাটা থেকে শুরু করে মালদহের রতুয়া কিংবা মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ— তালিকা থেকে স্পষ্ট যে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করেছিল কমিশন। ওই ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারের তালিকায় নাম ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরও (Bhowanipore RO transferred)।
বস্তুত, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে ডিজি, সিপি বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। পাঁচ জায়গার ডিআইজি-কেও সরানো হয়েছে। অর্ধেকের বেশি জেলার ডিএম, রিটার্নিং অফিসারের পর এবার বিডিও-দেরও বদলি করল কমিশন।
কমিশন সূত্রে খবর, আসন্ন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি।