আইনি জটিলতার কারণে সেই সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতকে জানায় স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 18 December 2025 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি (SSC recruitment scam) মামলায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme court) শুনানি চলছে। ২০১৬ সালের প্যানেলে নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় এর আগে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
সেই নির্দেশের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন করে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া (SSC recruitment process) শেষ করতে হবে। তবে আইনি জটিলতার কারণে সেই সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতকে জানায় স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানায় এসএসসি।
এদিকে মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে। গ্রুপ-সি ম্যামলাকারী সুবীর সরকার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) আবেদন করেছিলেন, যাতে এসএসসির যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই কলকাতা হাইকোর্ট যোগ্য এবং অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়।
তবে হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)। ফলে একদিকে যেমন নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশ নিয়েও জোরালো আইনি লড়াই চলছে শীর্ষ আদালতে।
এই মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।
এদিকে এসএসসি-র (SSC) নবম-দশমের নথি যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও একবার সামনে এসেছে ভুয়ো ও অযোগ্য প্রার্থীদের চিত্র। বুধবারই এসএসসি সূত্রে জানা যায়, ১৩২৭ জনের মধ্যে অনেকে ভুল তথ্য দিয়ে পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন। আবার অনেকে ২০১৬ সালে চিহ্নিত ‘দাগি’ হওয়ার পরও ফাঁক গলে ভেরিফিকেশনে ঢুকে পড়েন। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভুয়ো তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি, একাধিক ক্ষেত্রে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এই কারণেই তাঁদের নাম বাতিল করা হয়েছে।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যাচাইয়ের পরে এই ১৩২৭ জনের নাম নিয়োগ তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই প্রার্থীরা কোনওভাবেই আর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। সেই তালিকাও এসএসসি নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।
এসএসসি আগেই সতর্ক করেছিল, ভেরিফিকেশনের সময় যেন কোনও ভুল তথ্য দেওয়া না হয়। তার পরেও দেখা যায়, এই ১৩২৭ জন প্রার্থী মোট ৩৫টি বিষয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিয়েছেন। সেই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে।