মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR Supreme court) মামলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ছিল যে শীর্ষ আদালত ভোট ঘোষণা পিছোতে বলবে কিনা। বা শীর্ষ আদালতের কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে ভোট ঘোষণা পিছিয়ে যাবে কিনা। কারণ, ৬০ লক্ষ আবেদন এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। কিন্তু দেখা গেল, এদিন শুনানির সময়ে এ ব্যাপারে আইনজীবীরা আবেদন জানানো হলেও সুপ্রিম কোর্ট কোনও আমল দিল না। বরং প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিল, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটের নোটিফিকেশন (West Bengal Election date) জারি করতেই পারে।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 10 March 2026 21:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR Supreme court) মামলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ছিল যে শীর্ষ আদালত ভোট ঘোষণা পিছোতে বলবে কিনা। বা শীর্ষ আদালতের কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে ভোট ঘোষণা পিছিয়ে যাবে কিনা। কারণ, ৬০ লক্ষ আবেদন এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। কিন্তু দেখা গেল, এদিন শুনানির সময়ে এ ব্যাপারে আইনজীবীরা আবেদন জানালেও সুপ্রিম কোর্ট কোনও আমল দিল না। বরং প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিল, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটের নোটিফিকেশন (West Bengal Election date) জারি করতেই পারে।
যে ৬০ লক্ষ আবেদন এখনও এডজুডিকেশন বা বিবেচনার তালিকায় রয়েছে সেগুলি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে খতিয়ে দেখছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে তা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। মামলার শুনানিতেই জানা যায়, তার মধ্যে ৩ লক্ষ ৪ হাজার আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন নোটিফিকেশন জারি করার পর দেখা হবে স্ট্যাটাস কী! তার পর দরকার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হবে।
মোদ্দা কথা হল, ভোটের দিন ঘোষণার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন আর কোনও বাধা নেই। ফলে ৬০ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি না হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে বলে যে জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে ভাসছিল, তাও এতে খারিজ হয়ে গেল। এদিন মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী এও বলেন, ৬০ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি এত দ্রুত করা না গেলে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ীই বাংলায় ভোট হোক। কিন্তু সেই আবেদনেও গুরুত্ব দেয়নি শীর্ষ আদালত।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, কবে ঘোষণা হতে পারে ভোট?
সোমবার রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একবার একটি তারিখ উল্লেখ করেছিলেন। তা হল, ১৬ মার্চ। অর্থাৎ আগামী সোমবার। জ্ঞানেশ কুমার যদিও স্পষ্ট করে বলেননি ওই দিনই ভোট ঘোষণা করা হবে। তবে আমলাদের অনেকে মনে করছেন, সোমবার ভোট ঘোষণার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এবার প্রশ্ন হল, ৬০ লক্ষ আবেদনের ভবিষ্যৎ কী? সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকাই বা কবে ঘোষণা করা হতে পারে? আগেই বলা হয়েছে যে এদিনের শুনানিতেই জানা গেছে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বিবেচনাধীন বা অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায় ছিল, তাঁদের মধ্যে ১০ লক্ষের ব্যপারে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। যাঁদের আপত্তি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, তাঁদের নাম কবে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে বেরোবে তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এদিন জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশন—দুই পক্ষই কলকাতা হাইকোর্টের কাছে যেতে পারে। হাই কোর্টই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।
সুপ্রিম কোর্ট এ কথা জানিয়ে দেওয়ার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, উচ্চ আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই পালন করা হবে। তার পর সেই সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। সাধারণ মানুষকেও জানানো হবে।
এদিন মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশও দিয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া তথা এসআইআর-এ যাঁদের নাম বাদ গেছে এবং জুডিশিয়াল অফিসাররা যাঁদের আবেদন খারিজ করেছেন, তাঁদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি স্বাধীন আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।
হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিরা এই ট্রাইব্যুনালে থাকবেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, দরকার হলে কলকাতা হাইকোর্ট বা প্রতিবেশী রাজ্যের প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যেতে পারে।
শীর্ষ আদালত এও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে জুডিশিয়াল অফিসারদের নেওয়া সিদ্ধান্ত কোনও প্রশাসনিক সংস্থার কাছে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। ট্রাইব্যুনালের কাছেই যেতে হবে।