সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড় ধাক্কা SIR প্রক্রিয়ায়। শুনানি পিছোচ্ছে, অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রকাশও।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 20 January 2026 21:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court Order) একাধিক নির্দেশের জেরে আরও পিছিয়ে যেতে চলেছে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে শুনানি পর্ব (SIR Hearing) থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Voter List Update) প্রকাশের নির্ধারিত সময়সূচির উপরও। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। তবে শুনানি প্রক্রিয়া ঠিক কতদিন পিছোবে বা কবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি কমিশন।
প্রসঙ্গত, গতকালই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির তালিকা প্রকাশের পর ভোটারদের নথি জমা দেওয়ার জন্য অন্তত দশ দিনের সময় দিতে হবে। শুধু তাই নয়, ভোটারদের কাছ থেকে যে নথি নেওয়া হবে, তার প্রাপ্তিস্বীকারও বাধ্যতামূলক ভাবে দিতে হবে কমিশনকে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর করতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই পুরো প্রক্রিয়ার সময়সীমা নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কমিশনকে।
এই পরিস্থিতিতে এখনও পর্যন্ত যেসব ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট গাইডলাইন জারি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ক্ষেত্রেও কোনও চূড়ান্ত নির্দেশিকা কার্যকর করতে পারছে না রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। সিইও দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশনের নতুন গাইডলাইন প্রকাশের পর যাঁরা চাইবেন না বা আসতে পারবেন না, তাঁদের আবারও শুনানিতে হাজির হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
এতদিন পরিকল্পনা ছিল, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি প্রক্রিয়া চলবে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর সেই দিনক্ষণ পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।
এর পাশাপাশি শীর্ষ আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির আওতায় ঠিক কোন কোন ভোটার পড়ছেন, সেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। শুনানি কেন্দ্রে বিএলএ-টু (BLA-2)-দের উপস্থিত থাকার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটারদের শুনানিতে ডেকে কোন কোন নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার লিখিত দিতে হবে কমিশনকে।
এ দিন সুপ্রিম কোর্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকেও জন্ম শংসাপত্রের বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। আদালতের এই সব নির্দেশ মানতে গিয়েই এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা নতুন করে সাজাতে হচ্ছে কমিশনকে, এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।