স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের কমিটি যে নির্দেশিকা তৈরি করবে, তা ১৯টি ট্রাইব্যুনালের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। অফলাইনে আপিল জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 April 2026 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে এসআইআর মামলার (Supreme Court SIR Hearing) শুনানিতে সোমবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবারের শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালের (SIR Tribunal) ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
এই উদ্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটিতে তিনজন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। আদালতের মতে, এই কমিটিই ট্রাইব্যুনালগুলির জন্য একটি অভিন্ন পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি আরও জানান, বিচারকদের দেওয়া কারণ-সহ সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে ট্রাইব্যুনালগুলি নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি একটাই হবে, যা নির্ধারণ করবে এই কমিটি। আদালত আশা করছে, সম্ভব হলে আগামীকালের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে, যাতে আপিলগুলির নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত হয়।
এছাড়াও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের কমিটি যে নির্দেশিকা তৈরি করবে, তা ১৯টি ট্রাইব্যুনালের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। অফলাইনে আপিল জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এদিন আদালতে আরও জানানো হয়, নির্বাচন কমিশন চাইলে আজ রাতেই সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে পারে। ডিজিটাল সিগনেচার আপলোডের জন্য পোর্টাল খোলা থাকবে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত, যাতে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে নন্দলাল বসুর নাতি-নাতনিদের করা আপিলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আর এও জানা গেছে, সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৫৯ লক্ষ ১৫ হাজার নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৩ এপ্রিল, বিকেল ৩টেয়।
এই মামলার গত শুনানিতেই অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার অর্থ এই নয় যে তাঁর ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুততর করার দিকেই বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।