কপিল সিব্বলের দাবি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই রাজ্যগুলিতে এসআইআরের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাই শীর্ষ আদালত নোটিস ইস্যু করে জানতে চায় রাজ্যগুলির বর্তমান অবস্থান।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 11 November 2025 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের (Bihar) পর ১২ রাজ্যে এসআইআর (SIR) ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও (West Bengal)। ইতিমধ্যে রাজ্য পুরোদমে চলছে এসআইআরের কাজ। কিন্তু তার মধ্যেই শীর্ষ আদালতে মামলা হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই নোটিস ইস্যু করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি সহ সমস্ত মামলায় নোটিস ইস্যু (Notice) করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এসআইআরের সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জির প্রেক্ষিতে যে মামলা হয়েছিল তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। আইনজীবী কপিল সিব্বলের সওয়াল - এই সময়ে বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিপাত হয়, চাষাবাদ থাকে, বছর শেষে বড়দিনের উৎসবও রয়েছে। তাই এসআইআরের সময়সীমা বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।
এই মামলাতেই সুপ্রিম কোর্ট ১২টি রাজ্যকে নোটিস পাঠিয়ে তাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে। কারণ কপিল সিব্বলের দাবি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই রাজ্যগুলিতে এসআইআরের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাই শীর্ষ আদালত নোটিস ইস্যু করে জানতে চায় রাজ্যগুলির বর্তমান অবস্থান।
সোমবারই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, যেভাবে তাড়াহুড়ো করে এসআইআর (SIR)-এর কাজ করতে চাইছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন (Election Commission) তাতে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে। ওই বক্তব্যের কিছু পরেই এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের (TMC) তরফে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দায়ের হয় মামলা। সেই মামলাতে নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।
আদালতে তৃণমূলের আবেদন ছিল, এসআইআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ এত তাড়াহুড়ো করে করা উচিত নয়। তাতে অনেক ভুল থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গে থেকে এই ইস্যুতে বড় দাবিও করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোটবন্দি প্রসঙ্গ টেনে তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেন, “নোটবন্দির মতো এসআইআরও গায়ের জোরে পগার পার করবে ভাবছে। কিন্তু পগার পার ওদের হতে হবে। বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না।”
তারপরই নাটকীয় ভঙ্গিতে সোজাসুজি নির্বাচন কমিশনের সিইও-র উদ্দেশে মন্তব্য— “হ্যালো স্যার, ক্যান ইউ হিয়ার মি?” কিছুক্ষণ বিরতির পর যোগ করলেন, “আমার মনে হয় এসআইআর স্টে করা উচিত। কোটি কোটি মানুষ এখনও ফর্মই পায়নি।”
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণার সম্ভাবনা। তার আগে এত কম সময়ের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি, ফর্ম ফিলআপ - বাস্তবে অসম্ভব।