'কাতুদা' (পাড়ায় এই নামেই পরিচিত পার্থ) ঘরে ফিরতেই থিকথিক করছে ভিড় (West Bengal News)।

ঘরে ঢুকলেন পার্থ
শেষ আপডেট: 11 November 2025 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক। পরনে আকাশী রঙের ফুলে ছাপা জামা। চুলের অবস্থা উস্কোখুস্কো। দীর্ঘ তিন বছর সাড়ে তিন মাস পর জেল খেটে বাড়ি ফিরলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee Bail)। সোমবার, অর্থাৎ, জেলমুক্তির আগের রাত পর্যন্তও প্রাক্তন মন্ত্রীর পাড়া নাকতলায় (Naktala) তেমন কোনও উত্তেজনা টের পাওয়া যায়নি। অথচ, 'কাতুদা' (পাড়ায় এই নামেই পরিচিত পার্থ) ঘরে ফিরতেই থিকথিক করছে ভিড় (West Bengal News)।

বাড়িতে ঢোকার ছবিটা পরপর বললে এরকম দাঁড়ায়, এনএসসি বোস রোড ধরে পার্থর গাড়ি ঢুকল শৈলেন্দ্রকুমার চৌধুরী সরণিতে। তারপর নিজের বাড়ির গলিতে গাড়ি ঢুকতেই চিৎকার শোনা গেল, 'পার্থদা জিন্দাবাদ'। এরপর গাড়ি থেকে নামলেন পার্থ। চোখে জল। দরজার চৌকাঠে আসতেই আগুন ছুঁয়ে ঘরে ঢুকলেন তিনি। বরণ করে নিলেন পার্থর ভাইয়ের স্ত্রী। হাত ধরে ঘরে নিয়ে গেলেন ভাই ও ভাইয়ের মেয়ে। পাশে ছিলেন তাঁর আইনজীবী ও এলাকার তৃণমূল নেতা-কর্মীরা (TMC)।
২০২২ সালের জুলাই মাসে এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ মামলায় (Recruitment Scam) পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে ইডি। ওই সময় তাঁর দক্ষিণ কলকাতার নাকতলার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ জেরা শেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে পার্থর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের (Arpita Chatterjee) ফ্ল্যাট থেকেও উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার গয়না। এই ঘটনাই পরবর্তীতে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তোলে।
এর আগে একাধিকবার জামিনের আবেদন করেছিলেন পার্থ, কিন্তু প্রতিবারই আদালত তা খারিজ করে। পরে তিনি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হন। গত বছর ডিসেম্বর মাসে শীর্ষ আদালত জানায় - শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া যেতে পারে, তবে চার্জ গঠন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দি শেষ হলে তবেই মুক্তি মিলবে। সেই শর্ত পূরণ হওয়াতেই অবশেষে প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘরে ফেরার অনুমতি মিলল।
পার্থ গ্রেফতার হওয়ার ৫ দিন পর সাংবাদিক বৈঠক করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁকে সাসপেন্ড করছে দল। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলে তবেই দল ফেরত নেবে। ঘটনা হল, পার্থ জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এখনও নির্দোষ প্রমাণিত হননি। বরং তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে ইডি ও সিবিআই। সেই সব মামলার শুনানি চলছে।