এক সময়ের সহকর্মী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee Bail) জেলমুক্তি নিয়ে পরিহাস করলেন বিজেপি নেতা তাপস রায় (Tapas Roy)।

তাপস রায় ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 11 November 2025 16:21
"পরিষদীয় রাজনীতিতে একসঙ্গেই ছিলাম আমরা। কিন্তু বিষয়টা হল একজন রাজনৈতিক কর্মী বা ব্যক্তি, একজন মন্ত্রী ছিল। তারপরে শাসকদলের ডেপুটি লিডার ছিল বিধানসভায়। তার কি এটা সত্যিই মুক্তি?" এক সময়ের সহকর্মী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee Bail) জেলমুক্তি নিয়ে পরিহাস করলেন বিজেপি নেতা তাপস রায় (Tapas Roy)।
মঙ্গলবার অর্থাৎ আজই জেলমুক্ত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বন্দিদশায় থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এতদিন ভর্তি ছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই সেখান থেকেই নাকতলার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন পার্থ। এরই মধ্যে প্রাক্তন সহকর্মীর জেলমুক্তি নিয়ে মুখ খুললেন তাপস। দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন, "এটা কোনও মুক্তিই না। এরপর ও কোন মুখ নিয়ে সামাজে-রাজনীতিতে কী করবে, কোথায় যাবে? দুর্নীতির শুরুটাই তো ওর করা। সকলেই বুঝত, জানত। তখন ব্যবসায়ীরা ওকে দু'কোটি পার্থ বলে ডাকত। শুধু তাই নয়। পরিষদীয় কাজকর্ম, দলের কাজকর্ম, শিক্ষা বা শিল্পমন্ত্রী যখন ছিল, সেটা ওর কাছে সেকেন্ডারি ছিল।"
তাপস বলেন, "সন্দেহভাজনদের ঘরে যাতায়াত সেটা সবাই বুঝত, জানত যে কিছু একটা হচ্ছে। আমরা বুঝতাম। কিন্তু ব্যাপারটা হল, ও তো শুধু একা এর জন্যে দায়ী নয়। আর কেউ জানত না, আর কারও সমর্থন ছিল না এমনটা নয়। এই দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকদল, বাংলা-বাঙালি তথা দেশের মাথা হেঁট করে দিয়েছে। এরকম শাসকদল বা সরকার এর আগে কখনও বাংলায় দেখা যায়নি। কোনও কিছু বললে সেটার কোনও সমাধান হত না। সে চাকরি বিক্রিই হোক বা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন বিক্রিই হোক।"
পার্থর জেলমুক্তির খবর সামনে আসতেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, অনুব্রত মণ্ডল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো কি তাঁকেও দল কাছে টেনে নেবে? এমনিতেই এখনও তিনি খাতায়কলমে বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। চাইলেই এবার বিধানসভাতেও যেতে পারবেন। যদিও তাপসের মতে, পার্থ আদৌ নিজের পুরনো জায়গা ধরে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। দল যদি কাছেও টেনে নেয়, মানুষ মেনে নেবে না। বলেন, "কেষ্ট-বালুকেও মানুষ মেনে নেয়নি। এই সরকারকেই এরপর মেনে নেবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। মানুষ কখনও এই ধরনের অসভ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত লোককে মেনে নেবে না।"
তাপসের মতে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল যত না বিড়ম্বনায় পড়বে, তার চেয়ে বেশি পুরো শিক্ষা দফতর, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, এসএসসি প্রধান, প্রাক্তন উপাচার্য-সহ তৃণমূলের ছাত্র-যুব সভাপতি সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত। যাঁদের ব্যবহার করে দুর্নীতি হয়েছে। বিজেপি নেতার কথায়, "দুর্নীতির প্রশ্নে তৃণমূলের বিড়ম্বনা ছিল আছে থাকবে।"