কেষ্টর জেলমুক্তির পর এবার কাতুর ঘরে ফেরা নিয়ে জোর চর্চা। দুই ঘটনার মধ্যে কতটা পার্থক্য? পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পড়শিরা কী বলছেন তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা রাজ্য রাজনীতিতে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 11 November 2025 09:28
প্রথমে আসানসোল সংশোধনাগারে এবং তার পর প্রায় দেড় বছর দিল্লিতে তিহাড় জেলে বন্দিদশা কাটিয়ে দু’বছরেরও বেশি সময় পর যখন বীরভূমে ফিরলেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal), তখন বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় তুমুল হইচই। প্রিয় কেষ্টদার প্রত্যাবর্তনের জন্য তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় করেছিলেন কর্মী-সমর্থকরা।
শুধু তাই নয়, ‘অকাল হোলি’র ছবি দেখা গিয়েছিল একাধিক এলাকায়। তাছাড়া পাড়ায় মাইক বাজিয়ে উৎসবের মেজাজে আবির খেলা, স্থানীয় তৃণমূল নেতা, গ্রামবাসীদের ভাত, খাসির মাংস, আলুর তরকারি, দই ও পাঁপড় খাওয়ানো হয়।
অথচ, তৃণমূলের একসময়ের মহাসচিব, মন্ত্রী তথা বিধায়কের জেলমুক্তির খবরে কোনও তাপ-উত্তাপ নেই নাকতলায় (Partha Chattopadhyay)। সব ঠিক থাকলে মঙ্গলবার দুপুরেই বন্দিদশা কাটিয়ে ঘরে ফিরবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee Bail)। তাঁর বাড়ি ‘বিজয়কেতন’ আলো আঁধারে ঢাকা। গলিটাও খাঁ খাঁ করছে। আর গলির মুখে যে ফুচকাওয়ালা বসেন, তাঁরও কোনও হেলদোল নেই। দাদার ঘরে ফেরার খবরে কুঞ্চিত ভুরু টুকুই অবশিষ্ট। অথচ পাড়ার লোকজনেরাই বলাবলি করছিলেন, এই ফুচকাওয়ালার থেকেই ফুচকা কিনতেন কাতুদা (পাড়ায় এই নামেই ডাকা হয় পার্থকে) (Naktala Katuda)।
পার্থর গলির উল্টোদিকে যে রাস্তাটা চলে গেছে, অর্থাৎ জীবনরতন ধর শিশু উদ্যানের গা ঘেঁষে বসে থাকা লোকজনও পার্থর ফেরা নিয়ে আগ্রহী নন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্থরই একজন প্রতিবেশী বললেন, ‘অনুব্রতকে তৃণমূল বের করে দেয়নি। কাজেই, তাঁর ফেরা নিয়ে কর্মী সমর্থকদের মনে একটা উচ্ছ্বাস থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু কাতুদার ক্ষেত্রে যে টাকার পাহাড় পাওয়া গিয়েছিল, সেটা আর যাইহোক দল নিশ্চয়ই ভাল চোখে দেখেনি। মুখ বাঁচাতে সাসপেন্ডও করে দেওয়া হয়েছিল। মোট কথা এইসব কিছুর কারণেই পার্থর জেলমুক্তির খবর শোনার পরও অনেকে দূরে দূরে থাকছেন।’
২০২২ সালের ২৩ জুলাই নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছিল পার্থর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট ও আরও একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল সোনা ও নগদ মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
পাড়ারই একজনের কথায় ‘সেই সময় নাকতলায় একেবারে যাচ্ছেতাই কাণ্ড। নিজেকে একজন প্রতিবেশী হিসেবে পরিচয় দিতেও লজ্জা লাগছিল। পাড়ার বদনাম, মেনে নেয়া যায়? অথচ এই পাড়া ফুটবলের কৃষাণু দে, ইতিহাসবিদ সুশোভন সরকারের এলাকা। শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারে নাকতলার না হলেও কাছেই থাকতেন। যিনি আবার সম্পর্কে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মামা। সেই নাকতলার কিনা এইভাবে পরিচয় তৈরি হল। ভাবা যায় না।’
যদিও কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, পার্থদার জন্য পড়ার অনেকেই উপকৃত হয়েছেন এটা অস্বীকার করা যায় না। তা হোক, ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কি তৃণমূল কিছুটা হলেও নমনীয় হবে?
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, পার্থর সাসপেনশন প্রত্যাহারের কোনও প্রশ্নই নেই। হিসাব মতো, এখনও তিনি বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। তাই চাইলে তিনি বেহালায় ঘুরে বেড়াতেও পারেন। বিধায়ক হিসাবে তাঁর সেই অধিকার রয়েছে। উনি বিধানসভাতেও যেতে পারেন। কিন্তু দলের স্থানীয় নেতা কর্মীরা তাঁর সঙ্গে থাকবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে।