তৃতীয়ার সকাল রোদ ঝলমলে হলেও কলকাতার অধিকাংশ এলাকা এখনও জলমগ্ন। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামিকাল থেকে ফের নামতে পারে ভারী বৃষ্টি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 September 2025 08:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ তৃতীয়া। সকাল থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় রোদ উঠেছে। আকাশ ঝকঝকে না হলেও ভারী বৃষ্টি তেমন হয়নি। মঙ্গলবার দিনভর দুর্যোগের পর বুধবার সকালে রোদ দেখে খুশি সকলেই। তবে, আশঙ্কার বিষয় আগামিকাল ফের ভারী বৃষ্টির ভ্র্কুটি রয়েছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হবে, শনিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে সঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। ফলে সব মিলিয়ে দুর্যোগের মেঘ এখনই কাটছে না।
মঙ্গলবার অনেকেই বাড়ি থেকে বেরতে পারেননি, ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা খুব প্রয়োজন ছাড়া অফিসে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বুধবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় অনেকেই অফিস যাচ্ছেন। আবহাওয়ার উন্নতি হলেও কলকাতার চিত্রটা গতকালের চেয়ে আজ তেমন পাল্টায়নি। এখনও কোথাও হাঁটু জল বা কোথাও কোমর পর্যন্ত জলও রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও নামেনি এতটুকু।
কলকাতার আনন্দ পালিত রোডে জল রয়েছে অনেকটাই। একই অবস্থা সিআইটি রোডের একটা বড় অংশেও। জল এড়িয়ে রাস্তার এক পাশ দিয়ে চলছে গাড়ি ও বাস। এখন তেমন সমস্যা নাহলেও অফিস টাইম শুরু হলে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, জল দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে। কাল যা ছিল! আজ অনেকটা কমেছে। সকলের ভরসা এখন রিকশা।
সময় যত গড়াবে জল নামবে বলে মনে করছেন পুর আধিকারিকরা কিন্তু কতক্ষণে নামবে তা স্পষ্ট নয়। এদিকে লকগেট বন্ধ হবে বেলা ১২টা থেকে ১২.৩০টা নাগাদ, ফলে বৃষ্টি না হলেও জল তখন আর নামবে না।
আলিপুর জানাচ্ছে, আগামিকাল থেকে একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি হবে। শনিবার থেকে বজ্র বিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। তালিকায় রয়েছে কলকাতাও। চিন্তায় পুজো উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার ভিআইপি বাজার, টেগোর পার্ক-সহ বাইপাসের প্রায় সব কলোনিতেই প্রচুর জল জমেছিল। বেশিরভাগ এলাকায় জল নেমে গেলেও, অনেক জায়াগায় রয়েছে এখনও। বেশ কিছু দোকান বন্ধ বুধবার সকালেও, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে রাস্তার। টেগোর পার্কে এখনও হাঁটু সমান জল। গাড়ির বনেট পর্যন্ত জল উঠে যাচ্ছে ফলে গাড়িতে যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছে না। নিত্য যাত্রীরা বলছেন, 'ক্যাব পাওয়া যাচ্ছে, গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না, এই পরিস্থিতিতে কেউ অসুস্থ হলে কী হবে। পাম্প চালিয়ে জল বের করা হয়নি। আবার নিম্নচাপ বলছে। কোথায় যাব?'
ওই এলাকারই এক ব্যবসায়ী জানালেন, দোকান গতকাল বন্ধ ছিল। খোলার চেষ্টাও করেননি। পরে রাতে দেখেন, খাবার-দাবার, আইসক্রিম, কেক সব নষ্ট হয়েছে। পুজো এসে গেছে তাই প্রচুর সামগ্রী স্টক করেছিলেন, বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই জল কবে নামবে, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কেউ জানে না।
নিউ গড়িয়া বা পাটুলির চিত্রও ব্যতিক্রম নয়। গতকাল সবচেয়ে বৃষ্টি হয়েছে এখানেই। জলবন্দি অবস্থার পরিবর্তন তেমন হয়নি। এত োজল জমে যে নিউ গড়িয়া আবাসনের একটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত ফ্ল্য়াটের প্রায় নীচের তলায় জল, কেউ পাম্প চালাতে পারছেন না। পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এখানকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দার অম্বিকেশ মহাপাত্র বলছেন, 'আমার জীবদ্দশায় দেখিনি এমন। ভারী বর্ষণের ফলে এই এলাকাও প্লাবিত, ভেবেছিলাম নেমে যাবে ২৪ ঘণ্টায় কিন্তু কোথায় কী, জল নামেইনি। পানীয় জলের সমস্যা হচ্ছে। একটা দিন কোনওভাবে চালিয়ে নেওয়া গেছে। আজ কী হবে, সেটা নিয়ে চিন্তায় সকলে। জল কিনে খেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি কীভাবে তা বোঝা যাচ্ছে না।'
জল নামেনি সে অর্থে পাটুলির বেশ কিছু এলাকাতেও, ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কীভাবে অফিস যাবেন, কীভাবে খাবার জোগার করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না অধিকাংশই।