কোন সিটে প্রার্থী হতে চলেছেন সুমন? সরাসরি উত্তর না দিয়ে রেখেঢেকেই বললেন, ''আমার গুরু বারণ করেছেন এখন কোনও কিছু বলতে।''

শেষ আপডেট: 18 January 2026 20:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরিহারা 'যোগ্য' শিক্ষক সুমন বিশ্বাস (Suman Biswas) এবার যোগ দিলেন হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) দল জনতা উন্নয়ন পার্টিতে (Suman Biswas joined JanataUnnayan Party)। পদ, রাজ্য জনতা উন্নয়ন পার্টির সাধারণ সম্পাদক (Suman Biswas as General secretary, JanataUnnayan Party)। অন্তত দলের প্রেস রিলিজ আর হুমায়ুনের ফেসবুক পোস্ট তাই বলছে। ভাইরাল হয়েছে সুমনের সঙ্গে হুমায়ুনের ছবিও (Suman Biswas and Humayun Kabir photo)।
দ্য ওয়ালের (The Wall News) তরফে সুমন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি স্পষ্ট জানান, ''হ্যাঁ আমি জনতা উন্নয়ন পার্টিতে যাচ্ছি।'' ভোটে যে তিনি এইবার প্রার্থী (Suman Biswas JanataUnnayan Party candidate) হচ্ছেন, সেটা বেশ পরিষ্কার। কিন্তু তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে জবাব এল ''ভোটে দাঁড়াতেই পারি।''
কোন সিটে প্রার্থী হতে চলেছেন রাজ্য জনতা উন্নয়ন পার্টির সাধারণ সম্পাদক? সেই প্রশ্নের কোনও সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। বরং রেখেঢেকেই বললেন, ''আমার গুরু বারণ করেছেন এখন কোনও কিছু বলতে। বাক্যবাণের ওপর তিনি নিয়ন্ত্রণ রাখতে বলেছেন।''
শুধু তাই নয়, সুমন এও জানান যে, ''১ ফেব্রুয়ারি প্রেস কনফারেন্সে আমি জানাব কীসের লোভে আমি জনতা উন্নয়ন পার্টিতে এসেছি।''
সুমন বিশ্বাসের জনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগ দেওয়া নিয়ে চুপ থাকেনি তৃণমূল। শাসক দলের নেতা অরূপ চক্রবর্তী ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ''"যোগ্য শিক্ষক" সুমন বিশ্বাস। ইনি আরএসএসের শাখায় শরীরচর্চায় যান, বিজেপির সমর্থিত মিছিলে ওঁকে দেখা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর সাথে একান্তে বৈঠক করেন ইনি। ইনিই আবার হুমায়ুন কবীরের দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। তাহলে দিনের শেষে বিষয়টি ঠিক কি দাঁড়াল? হুমায়ুন সুমন = শুভেন্দু সুমন অর্থাৎ যাহাই হুমায়ুন তাহাই ঔরঙ্গজেব (থুড়ি শুভেন্দু)।''
তবে, দ্য ওয়ালের প্রশ্নে সুমনের সাফ জবাব, ''জনতা উন্নয়ন পার্টি বিজেপির শাখা কিনা এগুলো নিয়ে এই মুহূর্তে কথা বলার সময় আসেনি।''
রাজ্য সরকার ও এসএসসি-র (SSC West Bengal) বিরুদ্ধে আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন হুগলির কানাগর আশ্রম মাঠের চাকরিহারা 'যোগ্য' শিক্ষক সুমন বিশ্বাস। তবে, গতবছর ডিসেম্বর মাসে সংগ্রামী যৌথমঞ্চের (Sangrami Joutha Mancha) জানায়, সুমনকে নিজেদের সঙ্গে রাখতে চাইছে না তারা। মঞ্চের তরফে জানানো হয়ে, সুমনের সঙ্গে তাদের কোনও সংযোগ নেই। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যৌথমঞ্চের মধ্যে থাকা অনেকের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক থাকলেও সুমনের কাজকর্মকে সংগ্রামী মঞ্চের পদক্ষেপ হিসেবে না দেখার অনুরোধও করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সংগ্রামী যৌথমঞ্চ সুমনের কোনওরূপ ক্রিয়াকর্ম বা বক্তব্যের কোনও রকম দায়ভার নেবে না।
কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের ব্যবস্থা হয়েছিল। লোকজন বলাবলি করছে, বকলমে সেই অনুষ্ঠান ছিল বিজেপির। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার সুমন বিশ্বাসও সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন। যে কারণে, সুমন মনে করছেন, তাঁকে মঞ্চের থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ এও হতে পারে।
প্রথম থেকেই যোগ্যদের দ্বিতীয় বার এসএসসি-র পরীক্ষায় বসে নিজেদের প্রমাণ করার ঘোর বিরোধী ছিলেন সুমন বিশ্বাস। একই সঙ্গে পরীক্ষায় বসতে হলেও দাগিদের সঙ্গে কোনও ভাবেই নয় বলে দাবি করে আসছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ মতো দ্বিতীয় বার নিজেকে প্রমাণ করতে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বসেন সুমন।